হজমের জন্য খাবার গ্রহণের সঠিক নিয়ম-কানুন

0

দৈনন্দিন জীবনে হজম সমস্যায় ভোগেন না, এমন মানুষ খোঁজে পাওয়া দূরূহ। সাধারনত ভুল খাবার গ্রহণের কারণে নানাবিধ সমস্যা আমাদের শরীরে দেখা দেয়। এইসব সমস্যার প্রধান কারণ হচ্ছে সঠিক নিয়ম-কানুণ মেনে না চলা। অথচ জীবনে সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললেই নানাধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি।

আমরা যেসব শারীরিক সমস্যায় পড়ি যেমন-পেটে গ্যাস হয়ে অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খাওয়ার পরে ক্লান্তি। এইসব সাধারণ সমস্যার খুব সহজ সমাধান হচ্ছে আমরা কী খাচ্ছি এবং কেমন করে খাচ্ছি, এই বিষয়টা বিবেচ্য।
খাবার গ্রহণে কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চললেই এইসব সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পেয়ে একটা স্বাস্থকর সুখি জীবন পেতে পারি। স্বাস্থ্য বিষয়ক অনলাইন “কিউর জয়” অবলম্বনে এখানে কিছু বিষয় তুলে ধরা হল-

খাবারের সময়ে অন্য কাজ বন্ধ রাখুন
আমাদের খাবার থেকে পুষ্টি প্রক্রিয়া এবং শোষণ করার জন্য আমাদের শরীরের একটি uplifting এবং স্থায়ী পরিবেশ প্রয়োজন হয়। যদি এটি না হয় তাহলে হজমে সমস্যা হতে পারে। আমাদের ব্যস্ত জীবনে খাবার খাওয়ার সময়টুকু অনেকে বের করতে পারে না। তখন কোন কাজ করতে করতে আমরা খাবারটা খাই, কিন্তু সঠিক হজমের জন্য অন্য কোন কাজ করা বন্ধ করতে হবে। যেমন, কম্পিউটারে কাজ করার সময়ে কিংবা গাড়ি চালাবার সময়ে খাওয়া উচিত নয়।

খাওয়া উপভোগ করুন
খাবার আমাদের জীবন বাঁচায়। আমরা যদি আনন্দের সঙ্গে খাবারটা খাই তাহলে সেটা শরীরের জন্য বেশি উপকার হয়। যখন আমরা খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি তখন আমাদের পাকস্থলী একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়। অথাৎ খাবারের যে স্বাদ ও গন্ধ থাকে সেটা আমাদের হজমকে উন্নত করতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী খাওয়ার প্রক্রিয়া চেতনা উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

পাচক অগ্নিকে ত্বরান্বিত করা
আমরা খাওয়া শুরু করার আগে পাকস্থলীতে খাবার হজম করতে একটি পাচকরস অগ্নিকাণ্ড বা পাচক অগ্নি উদ্দীপক তৈরী হয় যার দ্বারা হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি হয়। দুর্বল পাচকরস অগ্নি হলে খাওয়ার পরে শরীরে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

আয়ুর্বেদ মতে খাবারের পরে আধা ইঞ্ঝি আদা, একটু লেবুর রস এবং এক চিমটি লবণ দিয়ে খেতে সুপারিশ করে। এতে লালাগ্রন্থি গুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে, প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করে যাতে খাদ্য থেকে পুষ্টি সহজে আমাদের শরীরে শোষিত হয়।

আমাদের খাবার হজমে পাচক অগ্নির ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নি শিখা যদি খুব কম হয় তাহলে খাদ্য রান্না করতে দীর্ঘ সময় লাগবে তেমনই একইভাবে, যদি আগুন খুব বেশি হয় তবে খাবার পুড়িয়ে দিতে পারে। আমাদের শরীরের ভিতেরর ব্যাপারটাও তেমন। পাকস্থলীর পাচকরসের ভারসাম্য করা উচিত যাতে আমাদের খাবারকে দক্ষ এবং মসৃণভাবে হজম করতে পারি।

ঠান্ডা- পানীয় এড়িয়ে চলুন
এই পোড়া পানিতে ঠান্ডা পানি ঢালা হলে সাধারণত পানিতে আর্সেনিকযুক্ত পানি, পচনশীল আগুন নির্গত হয় ।তেমনই কেউ যদি মনে করে কোমল পানীয় পানে হজমে ভালো হবে তাহলে সে আরও নিজের ক্ষতিই করবে। তাছাড়া রেফ্রিজারেটর থেকে ঠাণ্ডা জুস বা দুধ সঙ্গে সঙ্গে পান করলে হজমে সমস্যা হয়। তাই বরফ বরফ ছাড়া ঘরের সাধারন তাপমাত্রায় পানি পান করা উচিত।

রাতের খাবার সময়মত খেয়ে নিন
আপনি যদি রাতে দেরি করে খাবার খান তাহলে আপনার ঘুম ঠিকমত হবে না এবং পরের দিনের কর্মক্ষমতা পাবেন না। প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের শরীরের একটা সম্পর্ক আছে, সূর্যের আলো যতই কমতে থাকে আমাদের হজম শক্তিও কমতে থাকে। তাই বিশেষজ্ঞ বলেন রাতের খাবার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খেয়ে নিতে হবে। ঘুমাবার অন্তত দুই ঘন্টা আগে খাবার খেতে হবে। আর খাবারটা যেন হয় সহজপাচ্য অন্যথায় হজমের সমস্যা সৃষ্টি হবে।

সুর্যের প্রখর আলো থাকে দুপুের ঠিক তেমনই আমাদের হজম প্রক্রিয়া সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকে দুপুর বেলাতে। আর তাই দুপুরের খাবার হতে হবে দিনের সবচেয়ে ভারী। তাছাড়া সকালের খাবারটাও পরিমানমত সঠিক সময়ে গ্রহণ করতে হবে।

খাবারের পরে দই
আমরা সবাই জানি যে দই খাবার হজমে সাহায্য করে। প্রত্যেক খাবারের পর যদি এক গ্লাস দইয়ের সরবত পান করার অভ্যাস করেন তবে আপনার কখনোই হজমে সমস্যা হবে না।চিনি বা চিনি ছাড়া এই সরবত তৈরী করে নিতে পারেন।

হজমের জন্য ত্রিফলা
ত্রিফলা হচ্ছে একটি শক্তিশালী আযুর্বেদ যা শরীরে পুষ্টির শোষণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কোলনকে পরিস্কার করে। বেশিরভাগ লোকের জন্য ত্রিফলা mild laxative এবং এই কারণেই এটি পাচনতন্ত্র থেকে টক্সিন পরিস্কার করার জন্য চমৎকার। প্রথমে মাঝারি মাত্রার ত্রিফলা খেয়ে অভ্যাস করে নিন। তারপর দীর্ঘদিন এটি খাওয়ার পর একটি গভীর বিশুদ্ধ প্রভাব শরীরে দেখতে পাবেন নিম্চিত।