প্রতিদিন আপনার শিশুকে যে ১০ কথা অবশ্যই বলবেন

0

শুধু মায়ের হাত ধরেই নয়, বরং চারপাশের পরিবেশ থেকেও শিক্ষা নেয় শিশুরা। দ্রুতগতির এই পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত তারা নানা পরিবর্তন দেখেই বেড়ে উঠে। এ সময়টাতে শিশুরা নানা জটিলতার সম্মুখীন হয়। কোন কোন শিশু অবশ্য তাদের সমস্যার কথা মায়ের সঙ্গে শেয়ার করে।

তবে অনেক শিশুই আছে যারা কাউকেই তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন না। এভাবে ক্রমাগত চেপে রাখতে রাখতে একসময়ে সে অন্তর্মুখী হয়ে ওঠে। আবার চারদিকের নানা অসুস্থ প্রতিযোগিতার মাঝে বেড়ে উঠতে গিয়েও শিশুদের মধ্যে একরাশ হতাশা কাজ করে। আর এ হতাশা থেকেই শিশুরা পরবর্তীতে ভুল পথে পা বাড়ায় কিংবা বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ।

কাজেই এসব পথ থেকে সন্তানকে সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব কিন্তু আপনার। এজন্য শিশুদের প্রতিদিন এমন কিছু কথা বলুন, যা তাদের ভালোভাবে বেড়ে উঠার অনুপ্রেরণা জোগাবে। এর ফলে শিশুদের সঙ্গে আপনার দূরত্বও অনেক কমে আসবে।

প্রতিদিন শিশুদের বলবেন যে ১০ কথা-

তোমাকে বিশ্বাস করি
এই কথাটির ভেতরে অপূর্ব এক শক্তি লুকিয়ে রয়েছে। সন্তানকে প্রতিদিন একবার অন্তত এই কথাটি বললে দেখবেন সে কখনই আপনার বিশ্বাস ভেঙে দিবে না। কোন ভুল পথে পা দেবার আগে একবার হলেও তার কানে বাজবে আপনার আস্থার এই কথাটি। সে ফিরে আসবেই!

তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি
সব বাবা মা তাদের সন্তানকে ভালোবাসেন। কিন্তু আমাদের সমাজে এ কথাটা বলার প্রচলন একেবারেই নেই। সন্তানেরা কেবল তাদের মা বাবার শাসনের রূপটিই দেখে, সেভাবে ভালোবাসাটা অনুভব করতে পারে না। তাই রোজ রাতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে সন্তানের মাথায় হাত বুলিয়ে একবার বলুন ভালোবাসি। দেখবেন কি অসাধারণ প্রভাব পড়ছে এতে!

তুমি পারবে
সন্তানের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে আপনার এই ছোট্ট একটি কথাই মূখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই যখনই আপনার সন্তান কোন কাজ করতে যাচ্ছে বা কোন কিছুতে সাময়িক ব্যর্থ হয়েছে, তাকে এ কথাটি বলুন। দেখবেন আপনার সন্তান আসলেই তা করে দেখাবে।

হাল ছেড়ে দিও না
কোন কাজে আশানুরূপ ফল না পেয়ে মাঝে মাঝে আপনার সন্তান হতাশ হয়ে পড়তে পারে। এতে তাকে বকা ঝকা না করে বরং এ কথাটি বলে তার হারানো উদ্যম ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করুন।

সবাই শিখতে শিখতেই বিখ্যাত হয়, ঠিক তোমার মত
সন্তানের সামনে কোন একজন আদর্শ সফল ব্যক্তিকে রাখুন। যেমন স্টিফেন হকিংস। তার জীবনের চেষ্টা, পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যের কথা সন্তানকে শোনান। উৎসাহ দিন যে একদিন সেই উচ্চতায় তার পক্ষেও পৌঁছানো অসম্ভব কিছু নয়।

তোমাকে সবাই পছন্দ করে
কৈশোরে সন্তানেরা এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। তাদের মনে হয়, কেউ তাদের ভালোবাসে না। এই নিরাপত্তাহীনতার জায়গা থেকে তারা ভুল কোন প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, হতে পারে মাদকাসক্তও। তাই এই নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি থেকে বের করে আনতে এই কথাটি বলুন।

আমি তোমার বন্ধু, যেমনটা তুমি আমার
সন্তানের বন্ধু হতে হলে আগে তাকে এটা বুঝতে দিন যে আপনিও তাকে বন্ধু মনে করেন। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজে তার পরামর্শ জানতে চান। তাকে বলুন, আপনি তাকে বন্ধু ভাবেন এবং আপনি নিজেও তার বন্ধু। এতে সন্তান কোন অপরাধ করে এলেও আপনার কাছে স্বীকার করবে সহজেই!

আমি তোমাকে বুঝতে পারি
পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই চায় যে, তাকে কেউ না কেউ বুঝুক। তাই এই চাওয়ার জায়গাটাকে গুরুত্ব দিন। তাহলে সন্তানও ভবিষ্যতে আপনার চাওয়াকে গুরুত্ব দেবে নিঃসন্দেহে!

চর্চা কর, তোমাকে দিয়ে সব সম্ভব
আপনার সন্তান হয়তো কোন একটি বিষয়ে ভালো করতে পারছে না। এক্ষেত্রে তাকে হতাশ করে এমন কথা না বলে বরং চর্চার পরামর্শ দিন। তাকে বোঝান, তাকে দিয়েই সব কাজ সম্ভব। এতে সে অনুপ্রেরণা পাবে।

তুমি পারবে না এমন কোন কাজ নেই
একজন মানুষকে দিয়ে কখনোই সব কিছু হওয়া সম্ভব না। কিন্তু সন্তানকে এ কথাটি বলুন তার সাহস বাড়াতে। এতে তার চেষ্টার পরিমাণ বেড়ে যাবে হাজারগুণে।