দাঁতের সুস্থতায় চিনির ব্যবহার কমান

0

দাঁতের সুস্থতায় চিনির ব্যবহার কমান
দাঁতের সুস্থতায় চিনির ব্যবহার কমান
॥ ডা. আওরঙ্গজেব আরু ॥  সারাদিনের কর্মব্যস্ততার মধ্যে আমরা অনেকেই দাঁতের সঠিক যত্ন নিতে পারি না। কিন্তু দিনভর আপনি যা-ই করেন না কেন, আপনাকে মুখ ও দাঁতের ব্যবহার করতেই হবে। তাই আমাদের সবারই মুখ ও দাঁতের সুস্থতার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।

দাঁত আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে গেছে কিংবা ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এমন অবস্থাতেও আমরা দাঁত নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাই না। আমাদের টনক নড়ে তখনই, যখন দাঁতের ব্যথার চিৎকারে পাড়া-পড়শির ঘুম হারাম হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়।

আমাদের প্রতিদিনকার খাদ্য তালিকার একটি অন্যতম উপাদান হচ্ছে চিনি বা শর্করা; যার কারণে দাঁতের নানা সমস্যা হতে পারে। ঘরে-বাইরে প্রতিদিন আমরা কমবেশি মিষ্টিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করেই থাকি। এ ধরনের খাদ্য গ্রহণ খুবই স্বাভাবিক, তবে মনে রাখতে হবে তা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়ে যায়।

চিনি বা শর্করাজাতীয় খাদ্য আমাদের দাঁতের ক্ষতি করে জেনেও আমরা তা গ্রহণের পরিমাণ কমাই না। বিশেষ করে সোডাজাতীয় পানীয় গ্রহণে আমরা কোনোভাবেই বিরত থাকতে পারি না। চিনিজাতীয় খাদ্য গ্রহণের আসক্তির ফলে টুথ-ডিকে বা দন্তক্ষয় রোগে আমরা সহজেই আক্রান্ত হয়ে পড়ি। দাঁতে যেসব গর্ত হয়ে থাকে তার শতকরা ৯৫ ভাগই এসব খাদ্যের প্রতি আসক্তির কারণে হয়। আমাদের মুখে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকে। আর যখন আমরা চিনিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করি তখন এসব জীবাণু বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। চিনি এই জীবাণুর সঙ্গে মিশে এর কার্যক্ষমতাকে আরো বাড়িয়ে তোলে। একপর্যায়ে দাঁতের সবচেয়ে বাইরের স্তর যথাক্রমে অ্যানামেল ও ডেন্টিনকে আক্রান্ত করে ফেলে। ফলে দাঁত ভেঙে যায়। গর্ত হয়ে যায়। দাঁতে কালচে দাগ পড়াসহ দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা।

আমরা নানাভাবে সোডাজাতীয় তরল খাবার খেয়ে থাকি। আর সোডাতে থাকে চিনি। সোডাতে থাকা এই চিনি স্বাভাবিকভাবে পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলেও থেকে যায়। সোডা নিয়মিত গ্রহণ করলে চিনি ক্রমেই দাঁতের ফাঁকে আটকে যায় এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকার কারণে সৃষ্টি হয় ডেন্টাল প্ল্যাক। এই ডেন্টাল প্ল্যাক থেকে দেখা দেয় দাঁতের নানাবিধ সমস্যা। দাঁতে জমে থাকা এসব প্ল্যাকে ব্যাকটেরিয়া থাকে এবং সুগার অর্থাৎ চিনিজাতীয় দ্রব্য গ্রহণে প্ল্যাকে থাকা এই ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে ডেক্সট্রান নামক আঠালো উপাদান।

ডেক্সট্রানে থাকে এমন এক উপাদান, যা সাধারণ সব খাদ্যকণাকে সহজেই দাঁতের ফাঁকে আটকে রাখতে পারে। আর তখনই দেখা দেয় বিপত্তি। চিনিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা সম্ভব নয়। তবে এটি যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। লক্ষ্য রাখতে হবে, আপনি যদি সুগার এডিকশনে আক্রান্ত হন তবে নিয়মিত আপনার মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখতে হবে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে একজন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।