শুষ্ক মুখের বিভিন্ন কারণ, বিভিন্ন সমস্যা ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

0

শুষ্ক মুখের বিভিন্ন কারণ, বিভিন্ন সমস্যা ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
শুষ্ক মুখের বিভিন্ন কারণ, বিভিন্ন সমস্যা ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
॥ আনন্তি সুলতানা ॥  আমাদের মুখের অভ্যন্তরভাগ যখন স্বাভাবিক অবস্থায় আর্দ্র থাকে না, তখন এ অবস্থাকে শুষ্ক মুখ  বলা হয়। শুষ্ক মুখ অত্যন্ত বিড়ম্বনাকর এক অনুভূতি। এটি কোনভাবেই অবহেলার বিষয় নয়। কারণ শুষ্ক মুখ যেমন বিভিন্ন রোগের কারণে বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হতে পারে, তেমনি একইভাবে শুষ্ক মুখের কারণে মুখের অভ্যন্তরে নানাবিধ রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়াও লালাগ্রন্থিগুলোর কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় মুখে শুষ্কভাব বিরাজ করতে পারে যা লালা উৎপন্ন করে থাকে। লালার প্রবাহ কমে গেলে মুখ ও দাঁতে অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। জেরোসটমিয়া বা শুষ্ক মুখ হলে দাঁতে খাদ্যকণা এবং প্যাক জমা হয়ে থাকে। এ কারণে দাঁতে য় এবং মাঢ়ির রোগ দেখা দিতে পারে। লালা হল শরীরের নিজস্ব পরিষ্কারকরণ ব্যবস্থা। লালা দাঁতের উপরিভাগের খাদ্যকণা, প্যাক অপসারণে সাহায্য করে থাকে। লালা দন্তয় রোধে সাহায্য করে থাকে। লালা দাঁতের উপরিভাগ পরিষ্কার এবং এসিডকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে। যাদের শুষ্ক মুখ থাকে তাদের দাঁতের গোড়ায় ‘রসা’ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

শুষ্ক মুখের কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন-
১) জিহ্বার জ্বালাপোড়া ভাব।
২) খাওয়া-দাওয়ার অসুবিধা, বিশেষ করে শুষ্ক খাবার।
৩) কথা বলতে সমস্যা।
৪) মুখের অভ্যন্তরে আঠালো এবং শুষ্ক অনুভূতি।
৫) শুষ্ক, ফাটলযুক্ত ঠোঁট।
৬) স্বাদের সমস্যা।
৭) গলায় শুষ্কতা অনুভব।
৮) জিহ্বা লাল বা শুষ্ক।
৯) মুখে দুর্গন্ধ।

মুখ শুষ্ক হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যেমন-
১) মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার অভ্যাস থাকলে শুষ্ক মুখ হতে পারে।
২) অপর্যাপ্ত পানি পান করলে।
৩) ডিহাইড্রেশন বা শরীর থেকে পানি বের হয়ে গেলে।
৪) দুশ্চিন্তা।
৫) কোন কারণে প্রচণ্ড ভয় পেলে।

পুষ্টিগত অভাবের কারণে শুষ্ক মুখ হতে পারে। যেমন-
১) ভিটামিনের অভাবে।
২) রিবোফাভিনের অভাব হলে।
৩) ভিটামিন-এ এর অভাব হলে।

কিছু হরমোন বা মেটাবলিক অচলাবস্থার কারনেও মুখ শুষ্ক হতে পারে। যেমন-
১) ডায়াবেটিস।

সাধারণভাবে শুষ্ক মুখের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি-
১) পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে।
২) রাতে বিছানার পাশে পানি রাখা যেতে পারে।
৩) অ্যালকোহল ও ধূমপান বর্জন করতে হবে।
৪) ইয়াবা বা ফেনসিডিলের আসক্তি থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে।
৫) যেসব খাদ্যে চিনির পরিমাণ বেশি তা বর্জন করতে হবে।
৬) ফোরাইডযুক্ত পেস্ট, মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
৭) যেসব পানীয়তে অ্যালকোহল বা ক্যাফেইন থাকে যেমন : কিছু কোলা, কফি, চা, চকোলেটযুক্ত পানীয় কম খাওয়া উচিত। প্রয়োজনে বন্ধ করে দিতে হবে।
৮) লালার প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য এমন খাবার খেতে হবে যা খাওয়ার জন্য চিবানোর প্রয়োজন।
৯) চেরি বা অলিভ পিট চোষা যেতে পারে। আবার লেবুও চোষা যেতে পারে।
১০) ফাস্টফুড-জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।
১১) ভ্রমণের সময় এক বোতল পানি সঙ্গে রাখতে হবে।
১২) মশলা-জাতীয়, লবণাক্ত বা এসিডসমৃদ্ধ খাবার কমিয়ে দিতে হবে বা বন্ধ করে দিতে হবে।
১৩) রাতে শোয়ার সময় রুমে হিউমিডিটি ফায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে যাতে করে রুমে বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করা যায়।
১৪) লালার বিকল্প কৃত্রিম লালা অথবা মাউথ জেল ব্যবহার করা যেতে পারে মুখের টিস্যু আর্দ্র রাখার জন্য।

তথ্য- ডা. মোঃ ফারুক হোসেন
মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা