সকালের নাস্তা হোউক স্বাস্থ্যসম্মত

0

(ডা. ফজলেরাব্বী খান, ইহেলথ টোয়েন্টিফোর ডটকম ডটবিডি)- ডায়াবেটিস এর সাথে খাবারের সম্পর্ক নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত আছে। কেউ মনে করেন- ডায়াবেটিস হলে খাবারের ওপর একধরনের কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়। আবার কেউ মনে করেন- সবই খাওয়া যায়, তবে পরিমাণে কম কম। খাবার হতে হবে সুষম বা সুসমন্বিত অর্থাৎ প্রতি বেলার খাবারে খাদ্য উপাদানগুলো নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকতে হবে। একজন সুস্থ-স্বাভাবিক এমনকি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের দৈনন্দিন খাবার হবে সুষম। ডায়াবেটিস থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যা দিনের শুরু অর্থাৎ সাকালের নাস্তা থেকে শুরু হবে। খাবারের গুরুত্ব অনুধাবন করেই বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘স্বাস্থ্যসম্মত খাবার শুরু হোক সকালের নাস্তা থেকেই।’

সকালের নাস্তা কেন গুরুত্বপূর্ণ
সকালে নাস্তা খাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে রাতের খাবার এবং দুপুরের খাবারের মধ্যবর্তী সময়ের উপবাস ভাঙ্গাঁ। যদি আমরা সকালের নাস্তা না করি তাহলে কি হবে? আমাদের শরীর একটা দীর্ঘ মেয়াদী উপবাসে চলে যাবে এবং শরীর বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে, আমরা সহসা খাবার গ্রহণ করছি না। যখন দুপুরের খাবার খাব তখন আমাদের শরীর সেই খাবার ভবিষ্যতের জ্বালানীর জন্য শরীরে চর্বি আকারে জমা করবে। ফলে ওজন বেড়ে যাবে। সকালের নাস্তার মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরে সারাদিনের জ্বালানী সরবরাহ করি।

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা, যে সকল ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত সকালের নাস্তা খায়, তারা স্কুলে ভালো ফলাফল করে। সকালের নাস্তা শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। যারা সকালের নাস্তা করে দৈনন্দিন কাজে বের হন তাদের উৎপাদনশীলতা, উৎকর্ষতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং মানসিক স্থিরতা বেশী থাকে। শুধু তাই নয়, যাদের সকালের নাস্তা খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের খাদ্যাভ্যাসও হয় স্বাস্থ্যসম্মত। যারা সকালের নাস্তা বাদ দিয়ে থাকেন, তাদের খাদ্য তালিকাতে পর্যাপ্ত পরিমানে ফল ও শাক-সবজি থাকে না। তাদের খাদ্যে ক্যালসিয়াম এবং বিভিন্ন খনিজ পদার্থের অভাব দেখা যায়। এ ব্যক্তিরা প্রচুর মিষ্টি, চর্বিযুক্ত খাবার এবং কোমল পানীয় স্ন্যাকস হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন।

যদি ডায়াবেটিস রোগীদের কথা বলি, তাদের জন্য সকালের নাস্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যারা ইনসুলিন নিয়ে থাকেন, তারা যদি সকালের নাস্তা বাদ দিয়ে থাকেন তবে তাদের শরীরে গ্লুকোজ কমে যাওয়া বা ‘হাইপো’ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সঠিক খাদ্য নির্বাচন
কেউ যদি সকালের নাস্তায় চাহিদার তুলনায় বেশী খাবার গ্রহণ করেন, তবে সারাদিনে তাদের ক্যালরি গ্রহণ বেশী হবে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ওজন এবং রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সকালের নাস্তায় সঠিক মাত্রার ও ধরনের খাদ্য নির্বাচন জরুরী।
যদি সকালের নাস্তায় ৭-১০ গ্রাম আঁশযুক্ত খাবার থাকে। কাজেই আপনার জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরী অনুযায়ী ২/৩টি পাতলা আটার রুটি, একটি ডিম (সিদ্ধ বা কম তেলে পোস), কিছু সবুজ শাক-সবজি এবং যে কোন একটি টক জাতীয় ফল সকালের নাস্তায় খেতে পারেন। আপনি যদি প্রতিদিন আটার রুটি খেতে পছন্দ না করেন তবে ময়দা বা চালের গুড়ার তৈরী রুটি কিংবা পাউরুটিও মাঝে-মধ্যে খেতে পারেন।