ইহেলথ টোয়েন্টিফোর ডটনেট ডেস্ক// স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ২৯ হাজার ৭৯২ পদ শূন্য রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে এসব পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। বিশাল জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৬ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রশাসন-৪ (মনিটরিং ও সমন্বয়) অধিশাখার উপসচিব মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের সংখ্য ১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫০ জন। কিন্তু সেখানে বর্তমানে কর্মরত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫৮ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানেই অনুমোদিত জনবল নেই। সব মিলিয়ে ২৯ হাজার ৭৯২ পদ শূন্য রয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা শূন্যপদগুলো হচ্ছেÑ স্বাস্থ্য বিভাগের ১৭২; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২৫ হাজার ৩৭৫; নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ৩ হাজার ৯১২; ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ৮৭; স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৮৬; ন্যাশনাল ইলেক্ট্রা-মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের ২৯; যানবাহান ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ সংস্থার (টেমো) ২৫; স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের ৬টি। শূন্যপদগুলোর মধ্যে জেলা কর্মকর্তার ১৫, প্রথম শ্রেণির ৪ হাজার ৪৩৪, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩ হাজার ৯৮৫, তৃতীয় শ্রেণির ১৩ হাজার ৩৮২ এবং চতুর্থ শ্রেণির ৭ হাজার ৯৭৬টিসহ ২৯ হাজার ৯৭২টি পদ রয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়Ñ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামতের আলোকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি ‘দ্য বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস (নন-মেডিক্যাল অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ রিক্রুটমেন্ট) রুলস, ১৯৮৫’ অকার্যকর হওয়ায় বর্তমানে ওই নিয়োগবিধির আওতাভুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে রাজস্ব খাতভুক্ত পদে সরাসরি জনবল নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মৃত্যুজনিত, অবসর, পদত্যাগ, বদলি, স্থানান্তর, বরখাস্তসহ বিভিন্ন কারণে পদগুলো শূন্য হয়েছে। শূন্যকৃত পদগুলো পূরণের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভেজাল খাদ্যগ্রহণসহ নানাবিধ কারণে মানুষের মধ্যে রোগব্যাধি বেড়ে চলছে। রোগব্যাধিতে আক্রান্তরা চিকিৎসা পেতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় ছুটে যাচ্ছেন। সরকারও দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সেবাপ্রত্যাশীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুলক হক চৌধুরী দুলাল বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি ‘দ্য বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস (নন-মেডিক্যাল অফিসার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ রিক্রুটমেন্ট) রুলস-১৯৮৫ সালে এরশাদ সরকারের আমলে তৈরি করা হয়। সংসদে এরশাদ সরকারের আমলের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করায় অন্য বিধিগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগবিধিও অবৈধ হয়ে যায়।

ফলে নতুন নিয়োগবিধি তৈরি না হওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলোয় নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। নিয়োগবিধি তৈরি না হওয়ায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ জেলা-উপজেলা হাসপাতালগুলোয় টেকনিশিয়ান, টেকনোলজিস্ট, ফামার্সিস্ট, এমএলএসএস, সুইপার ও প্রহরীসহ সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দিতে না পারায় অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক্সরে মেশিন, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি বন্ধ রয়েছে। কারণ এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালাতে হলে টেকনিশিয়ান, রক্তসহ বিভিন্ন রোগ শনাক্তকরণের নমুনা সংগ্রহ করতে টেকনোলজিস্ট লাগবে। এসব কাজ তো অন্য কেউ করতে পারবেন না। ফলে আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবা কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এখন নিয়োগবিধি প্রণয়নের কাজ চলছে। নিয়োগবিধি তৈরি কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগবিধি হলেই লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে।