বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক খারাপের যত কারণ!

0

দু’জন নর ও নারীর বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে সংসার শুরু হয়। দুজনের মাধ্যমে সংসার শুরু হলেও একটি সংসারে যুক্ত থাকে অনেক সদস্য সংখ্যা। আর এ সংসারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে অন্যতম হলেন শ্বশুর ও শাশুড়ি। এদের মধ্যে শ্বশুর ও স্বামীকে দিনের বেশিরবাগ সময়ই কাজের তাগিদে বাইরে থাকতে হয়। অন্যদিকে সংসারে ছেলের বউ আর শাশুড়ির উপস্থিতি সব সময়। এখন অবশ্য অনেক ছেলের বউকেও চাকুরি করতে দেখা যায়। তারপরও বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক নিয়ে বাধে নানা ঝামেলা। তবে সব সময় শুধু ঝামেলা বাড়ে তা নয়; কখনও কখনও দু’জনের মধ্যে সখ্যতাও লক্ষ করা যায়।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শাশুড়ি বউয়ের মধ্যেকার একটা দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক চিরাচরিত। অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে এই অবস্থা বিদ্যমান। দেশটিতে শিক্ষার হার বাড়ছে এবং মেয়েরা কর্মক্ষেত্রে আসছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, শাশুড়িরা এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পুত্রবধূ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুণ নয়, রূপকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এ কারণেই সমস্যা বাড়ে।

আমাদের সমাজে প্রায়ই আমরা দেখতে পাই শাশুড়ি-বউ এর খারাপ সম্পর্ক। বেশিরভাগ সময়ই দোষ একজনের ঘাড়ে এসে বর্তায়। এতে সংসারে অশান্তিও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে সে সংসার ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। কিন্তু কেন এমন পরিস্থিতি হয় তা কখনও ভেবে দেখেছেন? শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি, অধিকাংশ শাশুড়িও ছেলের বউকে মন থেকে ভালোভাবে মেনে নিতে পারেন না। এ কারণেও সমস্যা বাধে। বিশেষ করে একমাত্র ছেলে হলে সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
বউ-শাশুড়ির খারাপ সম্পর্কের যত কারণ-

ছেলের জীবনে দখলদারিত্ব
বিয়ে করানোর আগ মূহূর্ত পর্যন্ত খুব স্বাভাবিকভাবে ছেলের জীবনের পুরো দখলটা মায়ের থাকে। কিন্তু বিয়ে করার পরেই সেই দখলদারিত্ব অনেকাংশেই ছেলের বউয়ের কাছে চলে যায়। ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও এই দখলদারিত্বের হাত বদল অনেক শাশুড়িই মেনে নিতে পারে না। এ কারণেই তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ধীরে ধীরে খারাপ হতে থাকে।

সংসারের ভাগ দেওয়া
ছেলেকে বিয়ে করানোর আগ পর্যন্ত পুরো সংসারটা শাশুড়ির কর্তৃত্বেই থাকে। কিন্তু বিয়ের পরে স্বাভাবিকভাবেই ঘর, বাড়ি, রান্নাঘর, সংসারের টাকা পয়সা, নিয়মকানুন অনেক কিছুই ছেলের বউয়ের অধীনে চলে যায়। আর হঠাৎ এই পরিবর্তনটা অনেক শাশুড়িই মেনে নিতে পারেন না এবং মনের গভীরে অভিমানের সৃষ্টি হয়। আর এই অভিমানের ফলেই ছেলের বউয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক খারাপ হয়।

ছেলের জীবনে গুরুত্ব কমে যাওয়া
ছোটবেলা থেকে ছেলেকে বড় করা পর্যন্ত ছেলের জীবনের প্রতিটি কোণা জুড়ে থাকে মা। কিন্তু বিয়ের পর খুব স্বাভাবিকভাবেই ছেলেরা স্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু এই বাস্তব সত্যটি মেনে নিতে পারে না অধিকাংশ ছেলের মা। আর তাই ছেলের বউ এর সঙ্গে অহেতুক খোঁচাখুঁচি লাগিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা দেয় শাশুড়িদের মধ্যে।

হিংসুটে
কিছু মানুষের স্বভাবই থাকে হিংসুটে ধরণের। তারা ছেলের প্রেমিকা, স্ত্রী, বন্ধু বান্ধব সবার সঙ্গেই হিংসাত্মক আচরণ করে। এ ধরণের শাশুড়িরা ছেলের বউয়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হিংসা করে এবং বউয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে বিকৃত মানসিক শান্তি পায়।

হীনমন্যতা
সংসারে নতুন বউ এলে সবাই নতুন বউটিকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে যায়। নিজের সংসারে, আত্মীয়স্বজনদের কাছে, ছেলের কাছে সব জায়গাতেই আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু থাকে ছেলের বউটি। ফলে শাশুড়িদের মনের অজান্তেই এক ধরনের হীনমন্যতা কাজ করে। সংসারে নিজের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে মনে করে ছেলের বউয়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এতে করে তাদের দুজনের মধ্যে আর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে না।

প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব
অনেক শাশুড়ি আছেন যাদের সবক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব থাকে। তাদের এই প্রতিযোগিতার কবল থেকে রক্ষা পায় না ছেলের বউও। এ ধরণের শাশুড়িরা সব সময়েই জাহির করার চেষ্টায় থাকে যে কম বয়সে সে তার ছেলের বউয়ের চাইতে অনেক বেশি সুন্দরী ছিল, তার পরিবার অনেক বড়লোক, বনেদী বংশে জন্ম নিয়েছেন তিনি। এসব জাহির করে তারা ছেলের বউকে ছোট করার চেষ্টা করে। কারণে অকারণে এ ধরণের শাশুড়িরা বউকে মানসিক কষ্ট দিয়ে অনেক শান্তি পায়।

বার্ধক্যে একাকীত্বের ভয়
ছেলের বউয়ের সঙ্গে হিংসা করার পেছনে শাশুড়িদের একটি মানসিক ভয় কাজ করে। আর তা হলো তারা মনে করে ছেলের বউ তাদেরকে ছেলের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দেবে এবং বার্ধক্যে তার কোন আর্থিক কিংবা আবাসিক সমর্থন থাকবে না। এই আতংকে শাশুড়িরা ক্রমাগত ছেলের বউ বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং অহেতুক তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।