সমসাময়িক সময়ে যে রোগটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তা হলো হ্নদরোগ। বাংলাদেশে হ্নদরোগে মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। সব বয়সের মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে মধ্য বয়ষ্ক ব্যক্তিরাই হ্নদরোগে বেশি আক্রান্ত হন।

হ্নদরোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য পারিবারিক ও শারীরীক ওজনসহ নানান কারণ থাকতে পারে। তবে মাত্রাতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ ও পুষ্টির অভাবের কারণে হ্নদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেশি ঘটে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য অভ্যাস ও জীবনযাপন প্রণালী হ্নদরোগ প্রতিরোধের মূল অস্ত্র। নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ হ্নদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

বাংলাদেশের পুষ্টি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসারে হ্নদরোগ প্রতিরোধে খাবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করে। হ্নদরোগ প্রতিরোধে সবজি, অল্প পরিমাণে মাংস, দুধ ও দানাদার শস্য গ্রহণ করা উচিত বলে এই নীতিমালায় জানানো হয়েছে।

হ্নদরোগ প্রতিরোধ ও হ্নদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবার তালিকা যেমন হওয়া উচিত:
১. দৈনিক গ্রহীত মোট ক্যালরির ৩০ শতাংশের কম ক্যালরি চর্বি থেকে আসা উচিত
২. পনির, বাদাম ও মাংস খাবার তালিকায় থাকা উচিত
৩. পটাসিয়াম সমৃদ্ধ সবুজ সবজি, ফল যেমন ডাব ও কলা প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকা উচিত
৪. চর্বির পরিমাণ কমাতে বেশি পরিমাণে আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে
৫. প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সবুজ সবজি, কাঁচা সালাদ, গমের রুটি, যা প্রচুর আঁশযুক্ত তা খাবার তালিকায় যোগ করা দরকার
৬. তিন বেলা আহারের পাশাপাশি হালকা খাবার খাওয়া ভাল।
৭. নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম, অনুশীলন করা উচিত, ওজন ঠিক রাখা দরকার।

যা করবেন না:
সোডিয়াম সমৃদ্ধ বাদামের মাখন, সালাদ ও ঠান্ডা খাবার, খাবার প্রস্তুত করার সময় ব্যবহার না করা উচিত।
১. উচ্চ লবণ সমৃদ্ধ খাবার তৈরি না করা
২. অ্যালকোহল গ্রহণ না করা
৩. খাবারের পটাসিয়াম এর উপস্থিতি রাখতে হবে।
৪. কোলেস্টরল গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে।
৫. সিগারেট রক্তচাপের ক্ষতি করতে পারে।
৬. কোলা, কফি, চা ও ক্যাফেইন শরীরে ক্ষতিকর পদার্থ জমা করে।
৭. কম পুষ্টিযুক্ত বিভিন্ন খাবার ও ফাস্টফুড পরিহার খাওয়া ঠিক নয়।
৮. চিনিযুক্ত যে কোন ধরণের খাবার পরিহার করতে হবে।