২৮টি প্রতিষ্ঠানের ৫১ ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল, ক্রয়-বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক// রেনাটা, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, অপসোনিন, বেক্সিমকো, ইবনে সিনাসহ ২৮টি কোম্পানির উৎপাদিত ৫১টি ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

অধিদপ্তর বলছে, নানাবিধ ঝুঁকি থাকায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই এসব ওষুধ বাতিল করা হয়েছে। ২০১১ সালে ওষুধ প্রশাসন এ ওষুধের অনুমোদন দিয়েছিল।

প্যারাসিটামল, পায়োগ্লিটাজন ও রসিগ্লিটাজন গ্রুপের বাতিলকৃত ওষুধসমূহের উৎপাদন, ক্রয়, বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ ও প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনসাধারণকে এসব ওষুধ ব্যবহার না করার জন্যও বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও লাইসেন্সিং অথরিটি (ড্রাগস) মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধসমুহ হলো- রেনাটা লিমিটেড, মিরপুর ও রাজেন্দ্রপুরের প্যারাডট ট্যাবলেট, মিরপুরের পায়োগ্লিন ৩০ ট্যাবলেট, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এইস সফট ট্যাবলেট, টস-৩০ ট্যাবলেট, টস-৪৫ ট্যাবলেট, সেনসুলিন ২ ট্যাবলেট, বেক্সিমকো ফার্মার নাপাসফট ট্যাবলেট, পায়োগ্লিট ৩০ ট্যাবলেট, পায়োগ্লিট ৪৫ ট্যাবলেট, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ফিভিমেট ট্যাবলেট, পায়োজেনা ৩০ ট্যাবলেট, রোমেরল ২ ট্যাবলেট, রোমেরল ৪ ট্যাবলেট, দ্য একমি ল্যাবরেটরিজের ফাস্ট-এম ট্যাবলেট, বায়োফার্মার এসিটা সফট ট্যাবলেট, প্রিগলিট-৩০ ট্যাবলেট, অপসো স্যালাইনের জিসেট ট্যাবলেট, অপসোনিন ফার্মার রেনোমেট ট্যাবলেট,পাইলো ৩০ ট্যাবলেট, এসকেএফ’র টেমিপ্রো ট্যাবলেট, ইউনিমেড এন্ড ইউনিহেলথ’র একটোস ৩০ ট্যাবলেট, এসিআই লিমিটেডের ডায়াট্যাগ ৪৫ ট্যাবলেট, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালসের রসিগ্লিট ২ ট্যাবলেট, রসিগ্লিট ৪ ট্যাবলেট, এরিস্টোফার্মার গ্লুকোরস ২ ট্যাবলেট, গ্লুকোরস ৪ ট্যাবলেট, গ্লুকোজন ৩০ ট্যাবলেট, ডেল্টা ফার্মার রসিট-৪ ট্যাবলেট, মিল্লাত ফার্মার পায়োট্যাব ৩০ ট্যাবলেট, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের পায়োডার ৩০ ট্যাবলেট, কেমিকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ওগলি ৩০ ট্যাবলেট, ট্যাজন -৪ ট্যাবলেট, ডক্টরস কেমিক্যাল ওয়ার্কস লিমিটেডের পায়োজন ৩০ ট্যাবলেট, অ্যালকো ফার্মার পায়োলিট ৩০ ট্যাবলেট, দ্য হোয়াইট হর্স ফার্মার লিট-৩০ ট্যাবলেট, আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যালসের পিজোবেট ৩০ ট্যাবলেট, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ডায়াটাস ৩০ ট্যাবলেট, শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালসের প্যারামিন ট্যাবলেট, পিগজন ৩০ ট্যাবলেট, সোমাটেক ফার্মাসিউটিক্যালসের একটেল-এম ট্যাবলেট, লিওন ফার্মাসিউটিক্যালসের মেটেস ট্যাবলেট, জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালসের পামিক্স এম ট্যাবলেট, নোভেল্টা বেস্টওয়ে ফার্মাসিউটিক্যালসের নরসফট ট্যাবলেট, প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালসের পিগ্লিট ৩০ ট্যাবলেট, রগ্লিট ৪ ট্যাবলেট ও মেডিমেট ফার্মা লিমিটেডের ডায়াপায়োট্যাব ৩০ ট্যাবলেট।

মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সম্প্রতি ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির ২৪৪তম সভায় এসব ওষুধের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে এসব ওষুধ নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে বাজার থেকে প্রত্যাহার করে তার পরিমাণসহ অধিদপ্তরকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন বাতিলকৃত ওষুধসমূহের উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, বিতরণ, মজুদ ও প্রদর্শন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ২৬ সদস্যের একটি কমিটি। ওষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া এ কমিটিতে অন্যদের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি এবং চিকিৎসা অনুষদের ডিন, বিএমএ সভাপতি, ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও মহাসচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন, ফার্মাকোলজি বিভাগ ও ক্লিনিকাল ফার্মেসি বিভাগের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিলসহ চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। সর্বশেষ কমিটিতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।