মুখ ও দাঁতের জন্য খাবার

0

দাঁত গঠনের জন্য চাই পর্যাপ্ত আমিষ। যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, ছোলা, বাদাম, সয়াবিন, গম ইত্যাদি আমিষ জোগায়। এ ছাড়া দরকার নানা ধরনের ভিটামিন।

ভিটামিন ডি
শৈশবে হাড় ও দাঁতের কাঠামো তৈরি করতে ক্যালসিয়ামের ভূমিকা অপরিহার্য। সূর্যালোক আমাদের দেহের ত্বকের মধ্যে প্রবেশ করে ভিটামিন ডি-তে পরিণত হয়। তাই সূর্যের আলো শৈশব থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় ইলিশ ও খয়রা মাছ, ডিমের কুসুম, মাখন, দুধে। ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং উঠলেও অগঠিত ও দুর্বল থাকে।

ভিটামিন সি
ভিটামন সি-এর অভাবে কোলাজেন কলা দুর্বল হয়ে পড়ে। মাড়িতে রয়েছে প্রচুর কোলাজেন। তাই ভিটামিন সি-এর অভাবে মাড়ি দুর্বল হতে পারে। স্কার্ভি রোগ হয় এবং মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। এ ছাড়া এটি ক্ষত পূরণে সাহায্য করে। ভিটামিন সি পাওয়া যায় প্রধানত: টাটকা শাকসবজি ও ফলে। আমাদের দেহে দৈনিক ৭০ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রয়োজন।

সুস্থ দাঁত গঠনের জন্য ছয় মাস বয়স থেকে শিশুকে সবজি ও টাটকা ফল দেওয়া প্রয়োজন। আমলকী, আম, জাম, লিচু, জামরুল, পেয়ারা, কলা, শশা, পেঁপে, আনারস, তরমুজ, নাসপাতি, কমলা, অাঙুর, আপেল ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি।

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
ভিটামিন বি-টু বা রিবোফ্লাবিনের অভাবে মুখে ঘা হয়। রিবোফ্লাবিন যথেষ্ট পাওয়া যায় দুধে ও অঙ্কুরিত শস্যে। সবুজ শাক, কড়াইশুঁটি, বিন, সিম ইত্যাদি সবজি, মাছ, মাংস এবং ডিমেও আছে ভালো পরিমাণে।

ক্যালসিয়াম
মানবদেহে যতটা ক্যালসিয়াম আছে, তার ৯৯ শতাংশ থাকে হাড় ও দাঁতে। ক্যালসিয়ামের প্রধান কাজ হচ্ছে ফসফরাসের সঙ্গে একযোগে অস্থি ও দাঁতের উপাদান গঠন করা। ক্যালসিয়াম পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় দুধে। তা ছাড়া পালংশাক, শজনে, কুমড়া ইত্যাদি শাকে ও মাছে যথেষ্ট ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। শিশুদের প্রতিদিন তিন থেকে চার কাপ দুধ খাওয়ালে হাড় ও দাঁতের বৃদ্ধির চাহিদা মেটানো যায়।

অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী, দন্ত বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল