পারলারে কী করবেন কী করবেন না

0

নিজের প্রতি যত্ন নিতে কিংবা অবসাদ কাটাতেই তো যাওয়া হয় বিউটি পারলার কিংবা বিউটি স্যালনে। সেখানে যথাযথ সেবা যেমন আশা করা হয়, তেমনি গ্রাহকের পক্ষ থেকেও কিছু সাধারণ বিষয় মেনে চলা উচিত। আর এক স্থানে অনেক মানুষই আসেন সেবা নিতে, আপনার কোনো আচরণে অন্য কারও সমস্যা হচ্ছে কি না, সেটা খেয়াল রাখাও প্রয়োজন। পারলারে যাওয়ার আগে তাই জেনে নিন জরুরি কিছু বিষয়। এই বিষয়ে কথা হয়েছে বানথাই বারবার অ্যান্ড বিউটি স্যালনের হেয়ার স্টাইলিস্ট কাজী কামরুল ইসলাম এবং হারমনি স্পা এবং ক্লিওপেট্রা বিউটি স্যালনের স্বত্বাধিকারী রাহিমা সুলতানার সঙ্গে। স্যালন এবং সেখানে সেবা গ্রহণকারী—দুই পক্ষেরই কিছু মৌলিক ভদ্রতা বজায় রাখা উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।
রাহিমা সুলতানার মতে, সঠিকভাবে যোগাযোগ করতে পারে, এমন একজন কর্মীকে পারলারের সামনের ডেস্কে রাখা উচিত। যিনি সেবা নিতে এসেছেন, তিনি কী চাইছেন সেটি বুঝতে পারা এবং সে অনুযায়ী সেবা সরবরাহ করার ক্ষমতা তাঁর থাকতে হবে। অনেক সময় কিছু জায়গায় দেখা যায়, কেউ সেবা নিতে এসে অনেকটা সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছেন অথচ তাঁর দিকে পারলারের কেউ ভ্রুক্ষেপই করছেন না, এমনটা যেন না হয়। প্রত্যেক গ্রাহকের দিকেই সমান মনোযোগ দিতে হবে। কোনো আচরণে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করা যাবে না।
সময়জ্ঞান
আজকাল অনেক পারলার ও স্যালনে সেবা নেওয়ার তারিখ ও সময় আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা হয়। পূর্বনির্ধারিত সময় না মেনে এসে তাড়াহুড়া করা ঠিক নয়। কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের যানজট পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১০-১৫ মিনিটের হেরফের মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু এর বেশি দেরি হলে পরে বিষয়টা সামলাতে একটু হিমশিম খেতে হয়। অনেক সময় আবার পরে এসে আগে সেবা নেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়, এটাও ঠিক নয়। ধৈর্য ধরে নিজের পালা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আবেগপ্রবণ হওয়া যাবে না
নিজের চুল সবারই প্রিয়, কাটতে তাই মায়া লাগাটাই স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে, আপনার চুল আপনি কতটুকু কাটবেন বা কীভাবে কাটবেন, সেটি সম্পূর্ণ আপনার সিদ্ধান্ত। অন্য কারও কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাটার পর আফসোস বা রাগারাগি করবেন না। আর যাঁরা সেবা দিয়ে থাকেন, তাঁদেরও সেবা গ্রহণকারীর চাহিদা ঠিকমতো বুঝে নিয়ে চুলে কাঁচি চালাতে হবে। একই ব্যাপার থ্রেডিং এবং মেকআপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ফোনে কথা বলুন বুঝেশুনে
রাহিমা সুলতানা জানান, বিউটি স্যালন ও স্পাগুলোতে মানুষ সাধারণত একটু স্বচ্ছন্দ হতেই যান, কিন্তু অনেকের আচরণে সেখানে আর আরাম করার মতো পরিবেশ থাকে না। দেশের বাইরে পারলার বা স্যালনগুলোতে মোবাইল ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট করে রাখার নিয়ম। আমাদের দেশে এই নিয়ম অনেক ক্ষেত্রে পালন করা হয় না। জরুরি দরকারে পারলারে বসেও ফোনে কথা বলা যেতে পারে। তবে খুব জোরে কথা বলা বা ব্যক্তিগত ফোনালাপ পারলারে উপস্থিত অন্যদের বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে।

ছোট বাচ্চাকে বাড়িতে রেখে আসুন
খুব ছোট বাচ্চা বিউটি পারলারে নিয়ে এলে বাচ্চারা কান্নাকাটি করে, চঞ্চল হলে এটা-সেটা ফেলে দেয়, এতে কাজের সমস্যা হয়। তাই ছোট বাচ্চা এবং অনেক ব্যাগ বা মালপত্র পারলারের বাইরে রেখে আসা উচিত। নিতান্তই অপারগ হলে জিনিসপত্র এক কোনায় রেখে দিন, বাচ্চাকে সামলানোর জন্য সঙ্গে অন্য কাউকে রাখুন। দল বেঁধে পারলারে গিয়ে হইহুল্লোড় করা উচিত হবে না।

খাবার খাব কোথায়?
পারলারে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি সেবা নিলে অথবা ঈদ কিংবা বিয়ের মৌসুমে ভিড় বেশি থাকলে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। আবার বউসাজ অনেক লম্বা সময় ধরে করা হয় বলে মাঝে কিছু খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। পারলারে খাওয়াদাওয়া করে আশপাশের জায়গা নোংরা করা যাবে না। খাওয়ার পর ময়লা-আবর্জনা যথাস্থানে ফেলে দিতে হবে। কাজী কামরুল ইসলাম বলেন, বিউটি স্যালনগুলোরও এই বিষয়টি মাথায় রেখে খাওয়াদাওয়া করার জন্য ছোট পরিসরে হলেও একটি জায়গার ব্যবস্থা রাখা উচিত।

বুঝিয়ে বলুন আগেই
সাজতে বা চুল বাঁধতে এসে শুরুতেই কী চাইছেন, তা ঠিকঠাক বুঝিয়ে দিতে হবে এবং সে অনুযায়ী বুঝে নিয়ে চেহারার সঙ্গে যেটি মানানসই, তেমন মেকআপ দেবেন মেকআপশিল্পী। কিন্তু কাজের সময় অনবরত ‘এটা মোছেন’, ‘সেটা লাগান’, ‘এটা খুলে ওটা পরিয়ে দিন’ অথবা জলদি করার তাগাদা দিতে থাকলে কাজের সমস্যা হয়। রাহিমা সুলতানা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে মেকআপশিল্পী ঘাবড়ে যান, অনেক সময় দ্বিধায় পড়ে যান; যার প্রভাব গিয়ে পড়ে তাঁর সাজানোতে। এমন করা মোটেও উচিত নয়। সেবাগ্রহণকারীর চাহিদার প্রতি যেমন সম্মান রাখতে হবে, তেমনি মেকআপশিল্পীকেও কিছু স্বাধীনতা দেওয়া চাই। এরপরও কোনো ব্যাপারে আপনার আপত্তি থাকলে সেটা ভালোভাবে বুঝিয়ে বলুন কিংবা বিউটি পারলার কর্তৃপক্ষকে জানান।

অন্যের বিষয়ে অনধিকার চর্চা নয়
নিয়মিত পারলার ও স্যালনে যান, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সেবা নিতে গেলেই পারলারের অনেক কর্মী কিছু সেবা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়ার নামে অনেকটা জোর করতে থাকেন, যা যথেষ্ট বিরক্তিকর। আবার অনেক সময় অন্য গ্রাহকেরা যেচে এসে নানা বুদ্ধি-পরামর্শ দেন, সেটিও শোভনীয় নয়। রাহিমা সুলতানা বলেন, প্রথমেই গ্রাহক কী ধরনের সেবা চাইছেন এবং তাঁর বাজেট কত, তা জেনে নিয়ে সাধ্যের মধ্যে তাঁকে সেরা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। নিজেদের ব্যবসায়িক লাভের জন্য কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তেমনি নিজের সেবার বাইরে অন্য অপরিচিত গ্রাহকদের অযাচিত পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করাও উচিত নয়।

ধন্যবাদ জানাই
যে কর্মীটি এতক্ষণ কষ্ট করে আপনার চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদান করলেন, একটি ধন্যবাদ তো তাঁর অবশ্যই প্রাপ্য। কাজ শেষে অন্তত হাসিমুখে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে আসুন। কোনো সেবা পছন্দ না হলে তাও জানিয়ে দিতে পারেন। তবে দুর্ব্যবহার করা একেবারেই উচিত হবে না।