হালকা নকশায় মেহেদির সাজ

0

587c8df92b39ac643238e05517b093dd-IMG_9960গ্রামবাংলার নববধূ, কিশোরী, তরুণী মেহেদির পাতা জোগাড় করে আনেন নিজের কিংবা অন্যের বাড়ির আঙিনা থেকে। সেই মেহেদি সন্ধ্যায় শিল-পাটায় বেটে রাতে গোল হয়ে হাতে দেন। পাঁচ আঙুলের মাথায় আর হাতের তালুর মধ্যখানে লাল হয়ে শোভা পায় রঙিন মেহেদি।
কিন্তু চারদিকে আধুনিকতার ছোঁয়া। এখন টিউব মেহেদিতে হাত রাঙানোর দিন এসেছে। শুধু তা-ই নয়, টিউবে এখন বিভিন্ন রঙের মেহেদি পাওয়া যায়। যেমন: গাঢ় লাল, কালচে লাল, কালোর শেড ব্যবহার হচ্ছে।
বর্তমানে হাত ভরে মেহেদি লাগাতে চাইলে আবার নকশার প্রয়োজন। পছন্দমতো একটি মোটিফ মাথায় রেখে পুরো হাত সাজানো যায়। আবার সূক্ষ্মভাবে মেহেদির প্রচলনও কমে আসছে, স্থান করে নিচ্ছে এখন শেডের ব্যবহার। তিন ধরনের মোটিফের বেশ চাহিদা দেখা যায়। ময়ূর, কলকা ও ফুলেল।
তবে এই তিন রকম মোটিফ একসঙ্গে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিলেন ফিগারিনা বিউটি ফিটনেস সেন্টারের রূপবিশেষজ্ঞ আবিদা আলী। জানালেন, পুরো হাতে একটু ফাঁকাভাব রেখে হালকা নকশার মেহেদির এখন বেশ চাহিদা। এ ছাড়া কালো রঙের মেহেদির চাহিদা বেশি তরুণীদের কাছে।
মেহেদি রং আরও বেশি লালও করতে পারেন। এ জন্য মেহেদি ওঠানোর পর ব্যবহার করতে পারেন চিনি ও লেবুর রস। এ ক্ষেত্রে চিনি ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে হাতের ওপর রেখে শুকালেই কাজ হবে। রংটা যেন দ্রুত চলে না যায়, সে জন্য সাবান ও পানি কম কম ব্যবহারের পরামর্শ আবিদা আলীর।
তবে মেহেদির টিউব ব্যবহারে সতর্কতাও জরুরি। বাজারের মেহেদিতে নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ মেশানো থাকে, যার প্রভাবে অ্যালার্জি হতে পারে। এটি এড়াতে ল্যাকটোক্যালামাইন ব্র্যান্ডের লোশন ব্যবহার করে তার ওপর মেহেদি লাগাতে পারেন। শিশুদের হাতে মেহেদি দেওয়ার আগে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। হাতে সামান্য মেহেদি লাগিয়ে দেখতে পারেন। কোনো সমস্যা না হলে বাকিটা লাগান।
মেহেদির সঙ্গে কেমন নেইলপলিশ ব্যবহার হচ্ছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। সাদা নেইলপলিশ বেশ ভালো মানায় গাঢ় লাল মেহেদির সঙ্গে। ফ্রেঞ্চ ম্যানিকিওরও করিয়ে নিতে পারেন। অনেকে নানা নকশার নেইল আর্ট করতে পছন্দ করেন। তবে সেটা যেন মেহেদির সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে না যায়।
মেহেদির প্রতি বেশ দুর্বলতা রয়েছে চারুকলার শিক্ষার্থী বীথি আফরীনের। জানালেন, বাচ্চাদের হাতের ক্ষেত্রে ছোট করে হালকা নকশা করেন তিনি। আর বড়দের জন্য ছোট ছোট নকশা দিয়ে পুরো হাত ভরে দেন, অথবা শুধু হাতের এক পাশ থেকে আঙুল পর্যন্ত নকশা করেন। চাঁদরাতে তাঁকে ঘিরে জমে ওঠে প্রতিবেশী-বন্ধুদের ভিড়। আর পরিবারের শিশুরা তো আছেই।
আফরীন জানান, বাজারে টিউব মেহেদিগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। বাজারে নামীদামি ব্র্যান্ডের মেহেদির পাশে আলমাস টিউব মেহেদির জনপ্রিয়তা রয়েছে। আলমাস টিউবের দাম পড়বে ৫০ টাকা করে।
পারলারগুলোতে মেহেদি দিতে খরচ পড়ছে বিভিন্ন রকম। শিশুদের মেহেদির জন্য খরচ পড়তে পারে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। ঘন নকশায় দুই হাত ভরে মেহেদি লাগালে খরচ করতে হবে দুই থেকে চার হাজার টাকা। এ ছাড়া হালকা নকশায় চেইনের মতো করে এক হাতে মেহেদি দিতে পারেন। এক হাতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাগতে পারে। হাতের মাঝখানে দুই পিঠে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কনুই থেকে হাতের আঙুল (দুই পাশ) এক হাজার থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা লাগবে।