নামের আদ্যক্ষরে নিজেকে চিনুন!

0
আপনি কী জানেন, আপনার নামের প্রথম অক্ষর আপনার ব্যক্তিত্বে বিশেষ প্রভাব ফেলে। অঙ্ক জ্যোতিষ অনুযায়ী, যে ভাবে মূলাঙ্ক এবং ভাগ্যাঙ্ক ব্যক্তির জীবনকে প্রভাবিত করে, সে ভাবেই নামেরও প্রভাব পড়ে। আপনার নামের প্রথম অক্ষর কী ভাবে আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রভাবিত করে জেনে নিন। আজ রইল A থেকে M। আগামীকাল দেখুন পরবর্তী ভাগ…
A– যদি কোনও মেয়ে বা ছেলের নাম ইংরেজির A অক্ষর দিয়ে শুরু হয়, তা হলে এমন ব্যক্তি খুবই আকর্ষক হয়ে থাকেন। এই অক্ষরের ব্যক্তিরা ভালোবাসা এবং যে কোনও সম্বন্ধকে খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কিন্তু এঁরা খুব বেশি রোম্যান্টিক হন না। সমস্ত কিছুই এঁরা খুব দেরিতে পান। বহু বাধা অতিক্রম করে সেই সমস্ত জিনিস লাভ করেন তাঁরা। কিন্তু সাফল্য পেতে শুরু করলে এঁদের পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। সাফল্যের চূড়ায় থাকেন এঁরা। জীবনে সংঘর্ষ করতে হয়। কিন্তু অবশেষে নিজের লক্ষ্য জয় করেন। এঁদের মনের জোড় খুব একটা না-থাকলেও, দরকারের সময়ে এঁরা অপ্রত্যাশিত কাজ করে ফেলেন। তবে এঁরা রাগী মেজাজের। এঁরা লোকেদের সঙ্গে দেখা করতে এবং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পছন্দ করেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

B– এই অক্ষর দিয়ে যাঁদের নাম শুরু হয়, তাঁরা খুবই সংবেদনশীল। ছোট-ছোট কথাও তাঁদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। আবার ছোট-ছোট কথাতেই এঁরা খুশি হয়ে যান। এরা ভুল থেকে শিক্ষা নেন এবং নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা করেন। B অক্ষরের নামের ব্যক্তিরা খুব রোম্যান্টিক। B অক্ষরের লোকেরা সাধারণত প্রেম বিবাহ করে থাকেন। বাহ্যিক সৌন্দর্য এঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। টাকাকেও গুরুত্ব দিয়ে থাকেন এঁরা। সাধারণত সাহসী। তাই এই অক্ষরের লোকেরা সাধারণত সেনা বা বিপদসঙ্কুল ক্ষেত্রে চাকরি করেন। নিজের পরিশ্রমের ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন। সাধারণত এই অক্ষর দিয়ে যাঁদের নাম, তাঁরা ধনী হয়ে থাকেন। তবে মুডি স্বভাবের কারমে অনেকে তাঁদের অহংকারী মনে করে থাকেন। খুব একটা বন্ধু বান্ধব থাকেন না। তবে কোনও বন্ধু থাকলে তাঁর সঙ্গে খুব গভীর সম্পর্ক রাখেন এঁরা।

C– এঁরা সকলের সঙ্গে ঘোলামেলা করতে পারেন। সব সময় হাসি-খুশি থাকেন। এঁরা ভাবুক স্বভাবের। এঁরা স্পষ্টবক্তা। তবে ইচ্ছা করে কাওকে কষ্ট দেন না। ভালোবাসায় এঁদের অগাধ বিশ্বাস। এই অক্ষর দিয়ে যাঁদের নাম, তাঁরা ভালো দেখতে হন। যে কেরিয়ারই বাছুন না-কেন, উন্নতি অনিবার্য। অর্থাভাবে থাকেন না।

D– যে কোনও মূল্যে নিজের পছন্দের জিনিস হাসিল করে থাকেন এঁরা। কাজের প্রতি একনিষ্ঠ। আপসহীন হন। লক্ষ্যে না-পৌঁছনো পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান। তাই এঁরা জেদিও হয়ে থাকেন। পরিশ্রমী হন। সরস্বতী এবং লক্ষ্মী– উভয়ের আর্শীবাদ পান এঁরা। এঁরা নতুন কিছু করতে চান। এঁদের কাছ থেকে অবশ্যই কিছু না-কিছু শেখা যায়। জেদি হওয়ায় অনেকে এঁদের অহংকারী মনে করেন।

E– এই অক্ষর দিয়ে যাঁদের নাম শুরু হয় তাঁরা খুব বেশি কথা বলেন। হাসি-ঠাট্টা করে থাকেন খুব। তবে বেশি কথা বলার কারণে সবসময় সমস্যায় পড়ে যান। এঁরা যেমন ব্যবহার করেন, তেমনই ব্যবহার আশা করে থাকেন। তা না-হলে কড়া কথা শুনিয়ে দেন। এর খুব বেশি চিন্তা-ভাবনা করেন না। চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষা, ব্যবসা এবং অর্থের অধিকারী হন। এঁরা সবসময় হাসিখুশি থাকেন। এঁদের সকলেই খুব পছন্দ করে।

F– এই অক্ষর দিয়ে যাঁদের নাম শুরু হয়, তাঁদের জীবনে ভালোবাসার স্থান সর্বোপরি। এঁরা প্রয়োজনের বেশি ভাবুক হয়। এই অক্ষরের নামের লোকেরা লেখক হয়ে থাকেন। যেখানে যান, সেখানে সকলকে আপন করে নেন। এঁরা খুব আকর্ষক এবং রোম্যান্টিক। এঁরা সহজেই সকলকে সাহায্য করে থাকেন। খুব আত্মবিশ্বাসী। জীবনে সমস্ত কিছুর মধ্যেই ভারসাম্য বজায় রাখেন এঁরা।

G– এই অক্ষরের নামের ব্যক্তির মন খুব পরিষ্কার। তাই অনেক সময় সমস্যার সম্মুখীন হন এঁরা। একই ভুল বার বার করেন না। ভুল থেকে শিক্ষা নেন। এঁদের বন্ধুর সংখ্যা কম, শান্তিপ্রিয়, আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু রেগে গেলে কারও কথা শোনেন না। কম কথা বলেন।

H– এই অক্ষরের নামের লোকেরা খুব সংবেদনশীল। নিজের মনের কথা কারও সামনে প্রকাশ করেন না। এমনকি দুঃখে বা আনন্দেও কাউকে কিছু বলেন না। এই অক্ষরের নামের ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব খুবই রহস্যময়। নিজের সম্মান নিয়ে খুব চিন্তিত থাকেন। যাঁদের নাম H অক্ষর তাঁরা খুব বুদ্ধিমান হন। এঁরা সাধারণত রাজনীতি এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। কারও প্রতি নিজের ভালোবাসা সহজে ব্যক্ত করেন না। কিন্তু কাউকে ভালোবাসলে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। বৈবাহিক জীবন সুখী হয়। কারও সঙ্গে বন্ধুত্বও করেন না এবং কারও সঙ্গে শত্রুতাও করেন না। খুব অর্থ উপার্জন করেন।

I– এই ব্যক্তিরা শুধুমাত্র ভালোবাসার ভাষা বোঝেন। ভালোবাসা দিয়েই তাঁদের মন জয় করা যায়। এঁরা খুব ভাবুক। এঁরা মাথা দিয়ে কোনও কিছু ভাবেন না। মনের কথা শোনেন। তাই অনেকেই এঁদের সহজে বোকা বানিয়ে দেয়। সবসময় মনের কথা শোনার জন্য অনেক কিছুই হারিয়ে থাকেন এঁরা। জীবনে অনেক কিছু পেয়ে থাকলেও, তার সুখ কমই ভোগ করতে পারেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ জ্ঞান রাখেন। অর্থাভাব হয় না। বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পান।

J– সম্বন্ধের প্রতি সত্‍‌ এবং বিশ্বস্ত। শরীরের পাশাপাশি এঁদের মনও খুব সুন্দর হয়। খুব নখরবাজ। বাছবিচার রাখেন। যা চান তাই নিজের জোরে হাসিল করে থাকেন। টাকা, সম্মান এবং ভালোবাসা– সবই এঁদের কাছে থাকে। জীবনে খুব উন্নতি করেন। এই অক্ষর দিয়ে যাঁদের জীবনসঙ্গীর নাম, তাঁরা খুব ভাগ্যশালী।

K– এঁরা খুব ঠোঁটকাটা। যা মনে থাকে তাই বলে দেন। কোনও কথা বলার আগে কিছু ভাবেন না। নিজের ব্যাপারে ভাবতে পারেন। নিজের লাভের জন্য যে কোনও পর্যায়ে যেতে পারেন। অনেক অর্থ উপার্জন করেন। কিন্তু মান-সম্মানের তোয়াক্কা করেন না। এঁদের সকলেই ভয় পায়। এই অক্ষর দিয়ে যাঁদের নাম, তাঁদের বেশির ভাগই ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন। ঝুঁকি নিতে ভালোবাসেন। এঁরা দেখতে খুব সুন্দর। অনেকেই এঁদের প্রতি আকর্ষিত হন। বাহ্যিক সৌন্দর্য পছন্দ করেন।

L– ভালোবাসা এবং রোম্যান্সই এঁদের কাছে সব। সব কথাই মন দিয়ে ভাবেন। যে কোনও সম্পর্ককে খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কাউকে কষ্ট দেন না। ছোট ছোট জিনিসেই এঁরা খুশি থাকেন। সমাজ এবং পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাফল্য লাভ করেন। সবসময় হাসি-খুশি থাকেন এঁরা। সাহিত্যকে কেরিয়ার হিসেবে বেছে নেন। অর্থাভাব হয় না।

M- এঁরা খুব ভাবুক স্বভাবের। সব সময় গভীর চিন্তা-ভাবনায় ডুবে থাকেন। এ কারণে এঁরা অন্যের জন্য ঘাতক প্রমাণিত হতে পারেন। তাই এমন ব্যক্তিকে কখনও বিরক্ত করেবন না। কোনও কিছু একবার ধরে নিলে এঁরা সহজে ছাড়তে চান না। ভাগ্য এঁদের সঙ্গে থাকেন। তাই অর্থ এবং সম্মান– দুই-ই এঁদের হাতের মুঠোয় থাকে। এই অক্ষর দিয়ে যাঁদের নাম শুরু হয়, তাঁরা রাজনৈতিক ক্ষেত্রকে নিজের কেরিয়ার হিসেবে নির্বাচিত করেন। এঁরা সুবক্তা এবং লেখক।