রাশি মিলিয়ে জানুন কে কেমন মা-বাবা

0

আমরা সবাই রাশিফলের সাথে পরিচিত। আমাদের দিনটি কেমন যাবে, এ ব্যাপারে আমরা কিছুটা আঁচ করতে পারি রাশিফল দেখে। এমনকি আমাদের ব্যক্তিত্বের মূল ব্যাপারগুলোও কিছুটা বলে দেওয়া যায় আমাদের রাশি থেকে। প্রেম, কেরিয়ার, দুর্ঘটনা ইত্যাদি ব্যাপারে রাশিফল দেখতে আমরা অভ্যস্ত। এবার আসুন একটু ভিন্ন স্বাদের কিছু জেনে নেওয়া যাক। আপনি কেমন মা/বাবা হচ্ছেন বা হবেন, কিংবা আপনার নিজের মা-বাবা আসলে কেমন তা দেখেন নিন রাশির সাথে মিলিয়ে!

মেষ

সব বিষয়েই আপনার উৎসাহ বেশি এবং অভিভাবকত্বের ক্ষেত্রেও তা সত্যি। এ কারণে আপনি নিজের সন্তানকে উৎসাহ দিতেও পটু। বাড়িতে এবং স্কুলে তারা যেন ভালো সময় কাটাতে পারে তার চেষ্টা করেন আপনি। তবে কম বয়সে বাবা/মা হলে আপনি বাচ্চাদের দুষ্টুমি সহ্য করার ক্ষেত্রে একটু অধৈর্য হয়ে উঠতে পারেন। তবে শীঘ্রই এ সমস্যা কেটে যায়। মেষ মা সাধারণত অন্য সব কাজের চাইতে বাচ্চার জন্য বেশি সময় ব্যয় করেন।

বৃষ

শৈশবে নিজে যে সব সুযোগ-সুবিধা পাননি, নিজের বাচ্চাকে সে সব দেওয়ার চেষ্টা করেন বৃষ অভিভাবক। তিনি হয়ে থাকেন বেশ নিয়মানুবর্তী, কিন্তু তাই বলে সন্তানকে স্নেহ দেবার ব্যাপারে কার্পণ্য নেই তাঁর। তাঁরা মাঝে মাঝে বাচ্চার পেছনে অতিরিক্ত খরচ করে ফেলেন। তবে সন্তানের শিক্ষার পেছনে যদি সেই খরচটা যায়, তবে তাতে কোনও ক্ষতি নেই।

মিথুন

অভিভাবক হিসেবে আপনি প্রাণবন্ত এবং সুবিবেচক। নতুন নতুন আইডিয়া দিয়ে বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখতে পারেন আপনি। তবে সবসময় বাচ্চাদের মাঝে থাকতে কিছুটা বিরক্ত লাগতে পারে আপনার। সাধারণত বাচ্চার দেখাশোনা এবং কাজ সব এক সঙ্গে ম্যানেজ করতে অসুবিধে হয় না আপনার। আপনার বাচ্চারা সাধারণত আপনার মনোভাব বুঝতে পারে এবং সে ভাবেই আচরণ করে। বাবা হিসেবে ভালো হয়ে থাকেন মিথুন, কারণ বয়স যতই হোক তার মন থাকে চির তরুণ।

কর্কট

কর্কটেরা অসাধারণ হয়ে থাকে অভিভাবক হিসেবে। সন্তানের যত্ন নেবার ব্যাপারে তাঁরা নিবেদিতপ্রাণ। তবে মাঝে মাঝে বেশি নজরদারি করে থাকেন তাঁরা। আবেগের বশে সন্তানদেরকে নিজের আচলে বেঁধে না রেখে আরেকটু স্বাধীনতা দেওয়া প্রয়োজন।

সিংহ

সিংহ হলো সেই রাশি যা পিতৃত্বের প্রতীক। তিনি সন্তানের জন্য যথেষ্ট শিক্ষামূলক কাজ করতে উৎসাহী। আপনি বাচ্চাদের উৎসাহ দিতে ভালোবাসেন কিন্তু কখনও কখনও আপনার প্রত্যাশার চাপে পিষে যেতে পারে বেচারা। নিজের প্রত্যাশা তাদের ওপরে চাপিয়ে দেবেন না। তাদেরকে গড়ে তুলতে পারেন সহজ-সরল এবং সৎ মানুষ হিসেবে।

কন্যা

কন্যা রাশির মানুষ সাধারণত পরিবার পরিকল্পনায় বিশ্বাসী হয়ে থাকে। অভিভাবক হিসেবে খুব মমতাময় হয়ে থাকেন তাঁরা। তিনি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন সন্তানকে। সন্তান যেন জীবনে কোনো ভালো অভিজ্ঞতাই না হারায়, তার দিকে তিনি নজর রাখেন। কম বয়সেই বাচ্চাদের পড়াশোনা শুরু করতে পছন্দ করেন তাঁরা। তবে তাঁদের উচিৎ নিজের জন্যেও কিছু সময় রাখা নয়তো সন্তানের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন।

তুলা

বেশ হালকা মেজাজের অভিভাবক হয়ে থাকেন তুলা। সন্তানের সাথে বেশি কঠোর হন না তাঁরা। কিন্তু এর পরেও নিজের সন্তানকে সামাজিক মূল্যবোধ ঠিকই শেখাতে পারেন। সংসারে ঝামেলা পছন্দ করেন না তাঁরা এবং সন্তান বেশি বায়না ধরলে শুধুমাত্র শান্তি বজায় রাখার জন্য “হ্যাঁ” বলে দেন। আপনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেন, যেটা আপনার সন্তানদের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিরক্তিকর। বাচ্চদের সব আবদার মেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন আপনি কখনও কখনও।

বৃশ্চিক

বাচ্চারা আজেবাজে কাজে নিজেদের সময় এবং সম্ভাবনা নষ্ট করছে এমনটা দেখতে চান না আপনি। এ কারণে হয়ে থাকেন বেশ কঠোর এবং মেজাজি। তাদের নিজেদের জীবনের চাইতে যে সন্তানের জীবন আলাদা এটা বুঝে উঠতে চান না তারা।

ধনু

ধনু নারী ও পুরুষ উভয়েই চিন্তা করে থাকেন, তাঁরা হয়তো অভিভাবক হিসেবে ঠিক যোগ্য নন, অথবা কাজটা তাঁদের খুব একটা ভালো লাগে না। বাচ্চার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে তাঁদের। কিন্তু যথেষ্ট আন্তরিকতা থাকলে সেটাও সম্ভব।

মকর

মকর রাশির কর্মজীবী মায়েরা সন্তানের জন্য নিজের কর্মক্ষেত্র থেকে সরে আসতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। বাচ্চার সঙ্গে মাঝে মাঝে আবেগশূন্য আচরণ করে থাকেন তাঁরা। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা উচিৎ তাঁদের।

কুম্ভ

আপনি সন্তানদের যে ভাবে বড় করে তোলেন, সে পদ্ধতিটা মোটেই সাধারণ নয়। আপনি হয়ে থাকেন তাদের সাথে বেশ ধৈর্যশীল এবং বাচ্চারাও আপনার পেছনে পেছনে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। আপনি তাদেরকে বাচ্চা বলে তাচ্ছিল্য করেন না মোটেই। তবে একটা ব্যাপারে সাবধান থাকুন, আপনি যে ভাবে জীবন নিয়ে চিন্তা করেন, আপনার সন্তানের চিন্তা তার থেকে ভিন্ন হতেই পারে।

মীন

আপনার মাঝে নিয়ম-কানুন মানার প্রতি উদাসীনতা থাকলেও অভিভাবক হিসেবে আপনি চমৎকার। আপনি নিজের সন্তানের শৈশব বুঝতে পারেন, কারণ আপনার বয়স বাড়লেও আপনার মাঝে শিশুসুলভ মানসিকতা থেকেই যায়। তবে একটা বিষয়ে সতর্ক থাকুন, সন্তানের সব কথায় সায় দেবেন না। তারা যেন আপনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন।