রোজায় ডায়াবেটিক রোগীদের সুস্থতা

0

রোজায় ডায়াবেটিক রোগীদের সুস্থতা  ॥ ই-হেলথ২৪ রিপোর্ট ॥ ডায়াবেটিক রোগী
ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে পারবেন কিনা এ নিয়ে তারা অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।

কারা পারবেন :  যাদের ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে আছে এবং ডায়াবেটিসজনিত দেহে কোনও জটিলতা নেই তারা রোজা রাখতে পারবেন। ডায়াবেটিক রোগীর সুগার কন্ট্রোল মুখে খাওয়ার ওষুধ বা ইনসুলিনের মাধ্যমে হতে পারে। তবে রোজার সময় ওষুধের রিসিডিউল চিকিৎসকের মাধ্যমে করিয়ে নিতে হয়। যেমন ইনসুলিন দিনে কেউ দু’বার নিলে তা ইফতার ও সেহরির ১৫-২০ মিনিট আগে নেয়া যায়। অর্থাৎ সকালে ইনসুলিন নিলে তা ইফতারের আগে এবং রাতেরটা সেহরির আগে নিয়ে নেয়া যায়। মুখে খাওয়ার ওষুধও একই নিয়মে পরিবর্তন করতে হয়।

কারা পারবেন না : যাদের অনিয়ন্ত্রিত ও উচ্চমাত্রায় বাড সুগার আছে : এ গ্র“পের রোগীদের রোজা রাখতে বারণ করা হয়। কারণ এদের তিনবেলা ইনসুলিন নিতে হয় এবং দীর্ঘসময় উপবাস থাকলে এদের দেহে মারাÍক পানিশূন্যতা দেখা দেয়ার আশংকা থাকে। ফলে ইলেকট্রোলাইটস ইমব্যালেন্স হয়ে মৃত্যুঝুঁকির আশংকা থাকে।

ডায়াবেটিসের সঙ্গে এসোসিয়েট কিডনির সমস্যা থাকলে :  একিউট রেনাল ফেইলিউর অথবা কিডনি পুরোপুরি কর্মম না থাকলে এবং ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তাদের রোজা না রাখা ভালো। কারণ তাদেরও ইলেকট্রোলাইটস ইমব্যালেন্স হওয়ার আশংকা থাকে। ইফতারে ডাল জাতীয় খাবারের আধিক্য দেখা যায়। কিডনি রোগীদের এ খাবার রেস্ট্রিকটেড করা হয়। সারাদিন রোজা রাখার পর এ রোগীরা এ ধরনের খাবার খেলে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।

যারা তিনবেলা ইনসুলিন নিচ্ছেন :  উচ্চমাত্রায় বাড সুগার এবং ব্রিটল ডায়াবেটিক যারা অর্থাৎ সুগার খুব বেশি ওঠানামা করে তাদেরও রোজা রাখা যাবে না। কারণ হঠাৎ করে তাদের ইনসুলিনের ডোজ দু’বেলা আনা সম্ভব হয় না। তবে ইনসুলিন নেয়া রোগীরা যদি চিকিৎসকের পরামর্শে রোজা রাখতে চান, তবে রোজার সময় ইনসুলিনের পরিমাণ অন্যান্য সময়ের চেয়ে কমিয়ে নিতে হয়। কারণ এ সময় সাধারণত মোট ক্যালরি একটু কম গ্রহণ করা হয়। ডায়াবেটিস রোগীরা রমজানে পাঁচ-ছয়বার নয়, তিনবার খান বলেই ক্যালরি কমে আসে।

রোজা রেখে ইনসুলিন : রোজা মাকরুহ হয় না, যদি রোজা রেখে ইফতারের আগে ইনসুলিন নেয়া হয়। আলেমরা এর পে মত দিয়েছেন।

তথ্য-
অধ্যাপক ডা. খাজা নাজিমউদ্দীন
মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ
বারডেম।