প্রসূতি মায়রে রোজা রাখার নিয়ম কানুন

0

প্রসূতি মায়রে রোজা রাখার নিয়ম কানুন
প্রসূতি মায়রে রোজা রাখার নিয়ম কানুন
॥ নাজনীন সুলতানা ॥  মায়ের দুধ শিশুকে দেয়া আলাহ ওয়াজিব করেছেন। পবিত্র কোরআনে আলাহতালা সূরা বাকারায় শিশুকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ দানের নির্দেশ দিয়েছেন। মায়ের বুকের দুধ আলাহর বড় নেয়ামত। শিশুর পুষ্টি, জীবনধারণ এবং বৃদ্ধির জন্য মায়ের দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ দুধ শিশু জন্মের ছয় মাসে শুধু প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করে না বরং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক টিকা হিসেবে কাজ করে।

শিশুর বয়স বাড়ার পরেও মায়ের দুধ বিভিন্ন রোগ থেকে তাকে মুক্ত রাখে। মায়ের দুধ খেলে শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মায়, ফলে শিশুর ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কানপাকা, মেনিনজাইটিস, একজিমা, অ্যালার্জি, দাঁতের অসুখ ইত্যাদি কম হয়। এছাড়া রোগ হলেও এদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি বলে এরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করে।

রমজান মাসে প্রসূতি মা’রা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি রোজা রাখার জন্য দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। প্রসূতি মায়েদের বেলায় রোজা রাখার জন্য চিকিৎসকের মতামত প্রয়োজন। প্রসূতি মায়েরা তাদের খাবার গ্রহণের বিষয়ে এমন খাবার পছন্দ করবেন যাতে করে পুষ্টির ঘাটতি দেখা না দেয়। দৈনিক খাবার তালিকায় আমিষ জাতীয় অথবা প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি থাকতে হবে। ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, ডাল থেকে আমিষ জাতীয় খাদ্যের উপাদান পাওয়া যাবে।

বুকের দুধে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়ামের উপস্থিতির জন্য খেতে হবে সবুজ শাকসবজি, দই, পনির, বাদাম, কমলা, কলা, আঙুর, আপেল ইত্যাদি। ইফতারের আয়োজনে কলিজা সিঙ্গারা, কাবাব, ডিম, লাচ্ছি রাখা যেতে পারে। খেজুরসহযোগে ইফতার করলে প্রয়োজনীয় লৌহের চাহিদা মেটে। ইফতারের শুরুতেই পর্যাপ্ত তরল জাতীয় খাবারের উপস্থিতি বাঞ্ছনীয়।

প্রসূতি মায়ের বেলায় বুকের দুধ বাড়াতে তরল জাতীয় খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম। এ জন্য পানি ছাড়াও স্যুপ, ঝোল, ডাল, শরবত, সাগু ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। রোজা রাখার জন্য রমজানের সেহরি, ইফতার, সন্ধ্যারাত তিনবেলায় পর্যাপ্ত সুষম খাবারের সন্নিবেশ ঘটাতে হবে। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে নবজাতকের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

যেমন- শিশু দৈনিক ছয় বারের বেশি প্রস্রাব করছে কিনা, শিশুটি দৈনিক চারবার আঠালো মল ত্যাগ করছে কিনা, শিশুটির ওজন বাড়ার গতি ঠিক থাকছে কিনা। শিশুটি দিনে-রাতে ২৪ ঘণ্টায় ৮-১২ বার বুকের দুধ পান করছে কিনা।

উপরোক্ত বিষয়গুলোর আলোকে শিশুটির প্রস্রাব, পায়খানা, বৃদ্ধি, স্বাভাবিক থাকলে তাহলে বলা যেতে পারে শিশুটি পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে। পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাওয়া গেলে প্রসূতি মা’র রোজা রাখতে কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু হাদিস শরিফে উলেখ রয়েছে, পর্যাপ্ত বুকের দুধের অভাবে শিশু যদি দুর্বল, কান্ত, অসুস্থ হয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে প্রসূতি রোজা ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী সময়ে তা আদায় করে নেবে।

প্রসূতি মা রোজা রাখতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্য যেমন- শর্করা, চর্বি, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি আনুপাতিক হারে গ্রহণ করতে হবে। কারণ প্রয়োজনীয় সুষম খাদ্য গ্রহণের ফলেই মা’র সুস্বাস্থ্য রা পায় এবং নবজাতকের বৃদ্ধির গতি স্বাভাবিক থাকে।

তথ্য-
ডা. ইমনুল ইসলাম ইমন
জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু বিভাগ)
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকা