অ্যানথ্রাক্স নির্মূল না হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে : প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস

0

॥ ই-হেলথ২৪ রিপোর্ট ॥   বাংলাদেশে বর্তমানে কোথাও অ্যানথ্রাক্স রোগের তেমন কোনো প্রাদুর্ভাব নেই, এ রোগ নির্মূল না হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও বেলকুচিতে ৩০ জনেরও বেশি লোকের দেহে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, সিরাজগঞ্জের এ রোগের সংক্রমণ ঘটেছে ভারতীয় একটি গরু থেকে। অসুস্থ গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করার ফলে জবাই, মাংস কাটা ও রান্নার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই আক্রান্ত হয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার পর সরকার সীমান্তে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে, যাতে কোনো পশুই পরীক্ষা বা পর্যবেক্ষণ না করে দেশে আসতে না পারে।
অন্যদিকে, বার্ড ফ্লু উপদ্রুত এলাকায় টিকা কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বার্ড ফ্লু রোধে গঠিত জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সভায় গত ৩ জুন রোববার এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) নেতৃত্বে গঠিত এই বিশেষজ্ঞ কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, খামারিদের দীর্ঘদিনের দাবির কারণে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে খামারগুলোতে টিকা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির পরামর্শ অনুযায়ীই সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর উপদ্রুত এলাকার খামারগুলোতে টিকা কার্যক্রম শুরু করবে।

ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম সারা দেশে শুরু করা হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নির্ভর করবে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে সফল হলে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা হবে।

সরকারের কাছে বার্ড ফ্লু আক্রান্ত হাঁস-মুরগির পরিসংখ্যান সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে তথ্য সরকারের কাছে দিচ্ছে না। তারা কোনোভাবে এ রোগের আক্রমণ দেখলে আগেই হাঁস-মুরগি বিক্রি করে দেয়। ফলে তাদের তথ্য সরকার পায় না। তবে সরকার আক্রান্ত হাঁস-মুরগি নিধনের জন্য এ পর্যন্ত চার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।