অ্যান্টিবায়োটিক সেবন হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ঝুঁকির কারণ
অ্যান্টিবায়োটিক সেবন হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ঝুঁকির কারণ

॥ ই-হেলথ২৪ ডেস্ক ॥  সামান্য অসুখেই অনেকেই নামি-দামি অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন। শুধুমাত্র রোগীরা নিজের ইচ্ছাতে নয়, অনেক চিকিৎসকও এসব ওষুধ সেবনে তাদেরকে পরামর্শ দেন। কিন্তু নামি-দামি দুর্লভ এসব অ্যান্টিবায়োটিক সেবন মানুষের হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা।

সবারই জানা আছে, হৃদযন্ত্র আক্রান্তের ফলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘ ১৪ বছরের গবেষণার মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বলে তাঁরা দাবি করছেন।

গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ব্রংকাইটিস এবং ইনফেকশন বা সংক্রামক রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করে থাকেন রোগীরা। এর মধ্যে জিথ্রোম্যাক্স বা অ্যাজিথ্রোমাইসিন নামের অ্যান্টিবায়োটিক অন্য যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিক থেকে অনেক বেশি দামি এবং জনপ্রিয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই অ্যান্টোবায়োটিক সেবনের ফলে বেশির ভাগ রোগী হার্টের বা হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন। তাই চিকিৎসকদের উচিত রোগীকে বিকল্প ওষুধের নাম প্রেসক্রাইব করা।

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা এ গবেষণা করেন। গবেষকরা স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা তথ্য ও উপাত্ত এবং টেনেসির পাঁচ লাখ ৪০ হাজার রোগী, যাঁরা অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেছেন তাঁদের ১০ লাখের মতো প্রেসক্রিপশন বিশ্লেষণ করেন।

১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ গবেষণার সময়সীমা ধরা হয়। এর মধ্যে ২৯ জন হৃদরোগ জাতীয় অসুখে মারা যান। এঁরা পাঁচ দিন অন্তর জিথ্রোম্যাক্স অ্যান্টোবায়োটিক সেবন করতেন। এই অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে তাঁদের মৃত্যুঝুঁকি অন্য রোগীদের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

অ্যামোক্সিলিন নামের ওষুধের সঙ্গে তুলনা করে গবেষকরা বলেন, ১০ লাখ মানুষের মধ্যে জিথ্রোম্যাক্স সেবনের ফলে অতিরিক্ত হৃদরোগে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়ে থাকে। জিথ্রোম্যাক্স ওষুধের দামও অনেক বেশি। অনলাইনের মাধ্যমেও জিথ্রোম্যাক্স কেনাবেচা চলে। এ ওষুধটি তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফিজার কম্পানি।

ইয়েল ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. হার্লেন ক্রোমজ বলেন, মানুষের উচিত ওষুধ সেবনের আগে ওষুধটি সম্পর্কে ভালো করে জেনে নেওয়া। এ গবেষণা বিষয়ে তিনি মনে করেন, এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরো গবেষণা দরকার।

গবেষণা প্রতিবেদনটি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়েছে। এ গবেষণার পেছনে অর্থায়ন করেছে দ্য ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট।
সূত্র- টাইমস অব ইন্ডিয়া