গরমের পোষাক কেমন হবে?

0

সিনথিয়া মিথিলা// গরমের দিনে গায়ে কাপড় রাখাই দায়। তাছাড়া বাংলাদেশের গরমে ঘাম হয় বেশি। তাই গরমের কাপড় বাছাই করতে হবে এসব বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে।

গরমের দিনে পাতলা কাপড়ের পোষাকের কোনো বিকল্প নেই। পাতলা কাপড় মসলিনের চেয়েও পাতলা, ফিনফিনে হলে তার ভিতর দিয়ে বাতাস চলাচল করবে, গায়ে গরম কম লাগবে। তাছাড়া পাতলা কাপড় পরলে নারীর অন্তর্নিহিত রূপ দেখানো সহজ। পাতলা কাপড়ের তৈরি ফুতয়া, কামিজ, ব্লাউজ, শার্ট, টি-শার্ট -যেকোনো কিছুই পরা যায়। অনেকে ঢিলেঢালা পোষাক পরার কথা বলেন। আমি আঁটোসাঁটো, টাইট পোষাক পরার কোনো সমস্যা দেখি না। কারণ পাতলা কাপড়, সেটা শরীর থেকে দূরে সরে থাকলে বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাবে এদিকে-সেদিকে, ফলে যে এ্যাটায়ারে আপনি বেরিয়েছেন, সেই গেট-আপ ঠিক থাকবে না। তাই আঁটোসাঁটো পোষাকই বেশ সুন্দর।

গরমের পোষাকের রং সাদাই বেশি সুন্দর। অন্যান্য রংও পরা যাবে, তবে কালো পারতপক্ষে বাদ দিতে হবে। অন্যান্য রঙের মধ্যে হালকা রঙের প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।

লং স্লিভ ভুলেও পরা যাবে না। শর্ট স্লিভ, মিনি স্লিভ কিংবা স্লিভলেস পোষাক পরাই শ্রেয়। ব্লাউয বা টপসের ক্ষেত্রে ব্যাকলেস বা পিঠখোলা পোষাকই শ্রেয়। গলা ও পিঠের দিকে ডিপ ইউ-কাট (deep U-cut) বা ডিপ ভি-কাটও (deep V-cut) চলবে। আরো খোলামেলা ব্লাউজের ক্ষেত্রে বিকিনি ব্লাউজ বেশ সুন্দর আর সেক্সি। সেক্সি বিকিনি ব্লাউজের সাথে পাতলা লাল শাড়িতে গরমের প্রস্তুতি চূড়ান্ত।
শ্যামিজ একটা অবান্তর পোষাক। শ্যামিজ পরার কোনোই দরকার নেই। গায়ে ব্রা থাকলে শ্যামিজ অযথাই শরীরে পোষাক বাড়ায়। তাই গরম কিংবা শীতে শ্যামিজ বাদ দিন আপনার পোষাক থেকে, অযথা অর্থের অপচয়।

গায়ে ওড়নার মতো ঝামেলা না দেয়াই ভালো। তারপরও যদি দিতে হয়, তাহলে পাতলা ফিনফিনে ওড়না ব্যবহার করা যায়। ওড়না দিয়ে গা ঢেকে দিলে লাভ কিছুই হবে না, তাই ওড়নাটা গলায়, বা কাঁধে ঝুলিয়ে নিলে, তা আপনাকে আরো আকর্ষণীয় করবে। তবে তারপরও কেউ চাইলে গায়ে ওড়না জড়িয়ে পরতে পারেন, সেক্ষেত্রে পাতলা ওড়না পরতে হবে।

গরমে স্লিভলেস কামিজের সাথে পাতলা ওড়না আর পায়ে পাম্প শু। মডেল: শান্তা
সুতি প্যান্টি পরাই লজিকাল হবে। সুতি প্যান্টি আপনার যোনি এবং উরুর মাঝখানে সৃষ্ট ঘামকে শুষে নিবে। ফলে আপনার নিম্নাঙ্গ শুষ্ক থাকবে। একই কথা প্রযোজ্য আপনার ব্রা বা ব্রেসিয়ার চয়েজ করার ক্ষেত্রে। ব্রা চয়েজ করার সময় সুতি কাপড়ের বা নেটের ব্রা চয়েজ করুন।

গরমে মোজা পরা ঠিক হবে না, এতে পা অতিরিক্ত গরম হয়ে যাবে। তবে যাদের বাধ্যতামূলক পরতেই হয়, তারা সুতির, স্কিনমোজা ব্যবহার করতে পারেন।

জুতা পড়ার ক্ষেত্রে
গরমের সময় জুতা বাছাই করার ক্ষেত্রে সবাই বলে খোলামেলা জুতা, স্যান্ডেল ইত্যাদি। আমি সেসবে না করি না। বরং আমি পাম্প শু পরতেও উৎসাহ দেই। যারা পাম্প শু পরতে নিষেধ করেন, তাদের বক্তব্য হচ্ছে, পা গরম হয়ে যায়, ঘাম বেশি হয়। আমি তাতে দোষের কিছু দেখি না। পা গরম হলে পরে যখন ঘাম বের হয়, তখন প্রাকৃতিকভাবেই পা আবার ঠান্ডা হয়ে একটা সমতায় চলে আসে। চোখা সামনাওয়ালা পাম্প শু বা Pointy Toe Pump Shoe সব সময়ই আপনার পায়ে এনে দিবে একটা যৌন উত্তেজক আবহ। এছাড়াও পায়ের ঘাম আপনার পায়ে আর পাম্প শু’র ভিতরে তৈরি করবে এক প্রকার উত্তেজক গন্ধ, যা যেকোনো পুরুষকে আকৃষ্ট করবে। তবে গরমের সময় পাম্প শু বাছাই করতে হবে খাঁটি চামড়ার। রেকজিন কিংবা প্লাস্টিকের ভ্যাম্পওয়ালা পাম্প শু পরা যাবে না।

যাদের পা গরম হওয়ার কারণে অস্বস্তি লাগে, তাদের জন্য আছে সামনা খোলা পাম্প শু বা Peep Toe Pump Shoe। যাদের আরো একটু খোলামেলা দরকার, তারা পরতে পারেন স্টিলেট্টো মিউল পাম্প শু। এজাতীয় পাম্প শু’র সামনের অংশটা বদ্ধ থাকলেও পিছনটা খোলা থাকে, কখনও বেল্ট থাকে, কখনও বেল্ট থাকে না। আরো একটু খোলামেলা, বাতাস চলাচলক্ষম পাম্প শু চাইলে লেইস পাম্প শু পরতে পারেন, এগুলো পুরোটাই বাতাস চলাচলক্ষম লেইস দিয়ে বানানো হয়। কিন্তু কোনো অবস্থায়ই নারীকে তার নিত্য অনুষঙ্গ “হাই হিল” ছেড়ে দেয়া শোভন নয় মোটেও।

যারা খোলামেলা জুতা পরতে চান, তারা সিঙ্গেল স্ট্র্যাপ, ডাবল কিংবা মাল্টিপল স্ট্র্যাপের স্টিলেট্টো, হাই হিল, প্লাটফর্ম হাই হিল, হাই হিল স্যান্ডেল পরতে পারেন। ফ্ল্যাট জুতা নারীর সৌন্দর্যহানী করে।

—————-
-সিনথিয়া মিথিলা
(ফ্যাশন ও হাই হিল বিশেষজ্ঞ)