মিথ্যাবাদী চিনবেন কিভাবে!

0

অস্থিরতা আর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে না পারাই মিথ্যুক ধরার বড় হাতিয়ার নয়। এর বাইরেও এমন অনেক কিছু আছে, যেগুলো দেখেই বলে দিতে পারবেন, সামনের মানুষটি সত্যি কথা বলছে, না মিথ্যা।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক অ্যামি কাডি একটি বই প্রকাশ করেছেন সম্প্রতি। বইটির নাম ‘প্রেজেন্স: ব্রিংগিং ইয়োর বোলডেস্ট সেলফ টু ইয়োর বিগেস্ট চ্যালেঞ্জেস’। বইটির এক অংশে কাডি তুলে ধরেছেন মিথ্যা কথা ধরে ফেলার কিছু উপায়। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বড় কোনো বিষয়ের ওপর মনোযোগ না দিয়ে কথা বলার সময় মানুষের কিছু ছোট বিষয় খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন, তিনি মিথ্যা, না সত্য বলছেন। কারণ, মিথ্যা কথা বলার সময় চেহারা ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গি অজান্তেই অনেক সময় বিদ্রোহ করে বসে!

একটা ঘটনা ঢাকতে আরেকটা ঘটনা বানিয়ে বলে দিচ্ছে কেউ, কাজটা তো একটু কঠিনই বটে। অনেকের কাছে কাজটা সহজ হলেও মনে মনে অনুতপ্ত হন ঠিকই। যিনি মিথ্যা কথা বলার সময় অনুতপ্ত হচ্ছেন, তাঁকে কিন্তু সেটাও লুকাতে হচ্ছে। এত দিক সামলাতে গিয়ে কোথাও না কোথাও কিছু না কিছু ফাঁস হয়েই যায়।

কাডির মতে, সামনের মানুষটি মিথ্যা কথা বলছেন কি না, সেটা ধরার জন্য খেয়াল করুন তাঁর কথার সঙ্গে চেহারার অভিব্যক্তির মিল আছে কি না। গলায় হয়তো খুশির আভাস, কিন্তু চেহারায় থাকবে দুশ্চিন্তার ঝলক। তবে আমাদেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। উল্টো দিকের মানুষটি কী বলছেন, সেটার ওপর বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে কথা আর চেহারার অভিব্যক্তির অমিলগুলো চোখে ধরা পড়ে না।

তবে যাঁদের ল্যাংগুয়েজ প্রসেসিং ডিসঅর্ডার আছে, তাঁরা মিথ্যুকদের শনাক্ত করতে পারেন। যেহেতু ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে তাঁদের সমস্যা হয়, কী বলা হচ্ছে সেটা দ্বারা তাঁরা বিভ্রান্ত হন না। কাডির মতে, রাস্তা একটাই; যদি সত্য-মিথ্যা বুঝতে চান, তাহলে শুধু কথার ওপর ভরসা না করে চেহারা ও শারীরিক অঙ্গভঙ্গির দিকেও লক্ষ রাখুন।