এটিএম সামসুজ্জোহা, ঠাকুরগাঁও থেকে// পুঁতিময় গন্ধ, আলো বাতাস নেই, নেই পানি সরবরাহ। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের চিত্র এটি। শয্যার অভাবে করিডোর ও হাসপাতাল চত্বরের খোলা আকাশের নিচে চলছে শিশুদের চিকিৎসা। সদর উপজেলার গড়েয়া গ্রামের প্রতিভারাণী তার ২ বছরের শিশু পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হলে বৃহস্পতিবার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। শেষতক সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে গাছের নিচে তার শিশুর চিকিৎসা নেন তিনি। ওই দিন খোলা আকাশের নিচে ১৫ শিশু চিকিৎসা দেন নার্স-ডাক্তার। হরিপুর উপজেলার কান্দাল গ্রামের আরজিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এ হাসপাতালে চিকিৎসার কোনো পরিবেশ নেই। পঁচা, দুর্গন্ধে থাকা যায় না। এছাড়া শৌচাগারে পানির ব্যবস্থা নেই। বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরে না। রাতে বাতিও জ্বলে না। এ রকম অবস্থায় তাদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আরজিনার সুরে বিউটি রানীর অভিযোগ দামি কোনো ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। সব কিছুই দোকান থেকে নিতে হচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবার এ দুদিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, হাসপাতালের বারান্দায় দুপাশের ঘরগুলোর দরজায় দরজায় শুধুই রোগী আর তাদের স্বজনদের ভিড়। বোঁটকা, দুর্গন্ধে রোগীরা নাকে কাপড় ঢেকেছে। হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. আবদুল জব্বার বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল থেকে ১শ শয্যায় উন্নতী করে উদ্বোধনী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে ১৯৯৭ সালে। এরপরও ভবন সম্প্রসারণ করা হয়নি। ফলে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।