শীতের পোশাকে কোট, ব্লেজার, জ্যাকেট

1

এ সময় দিন-রাত সর্বক্ষণ শীত অনুভূত হলেও সকাল বেলার মুহূর্তটি আরও দারুণ। এই শীতে ছেলেদের এমন পোশাক চাই যা ফ্যাশনেবল এবং শীতের উপযোগীও বটে। শীতে পুরুষের সবচেয়ে বেশি পছন্দের পোশাক হচ্ছে কোট, ব্লেজার, জ্যাকেট। আর চাকরিজীবী বেশিরভাগ পুরুষই কোট, ব্লেজার পরতে পছন্দ করে। শীতের সকালে সূর্যোদয় হয় অনেক দেরিতে। সূর্যাস্ত হয় তেমনি আগে। চাকরিজীবী পুরুষের সূর্যের আশায় বসে না থেকে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। তাদের সকাল সকাল বেরিয়ে পড়তে হয় নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশে। শীতে এবার কেমন ব্লেজার বেছে নিতে পারেন আপনি।

ক’দিন আগেও ব্লেজার ছিল ফরমাল পোশাক। বেসরকারি সংস্থা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস আর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কেজো পরিবেশেই ওটা ভালো মানাতো। কিন্তু পাল্টে গেছে সময়। এখন অনেকেই ব্লেজারকে ফরমাল পোশাক মানতে নারাজ। ফ্যাশনজগতে ব্লেজারের ফরমাল-ক্যাজুয়াল ধারণা ধুয়েমুছে উধাও হয়ে গেছে। বয়স, অবস্থান ও রুচিভেদে নানা ডিজাইনের ব্লেজার যে কারও গায়ে প্রায়শই চোখে পড়ছে। শর্ট শার্ট আর জিন্স প্যান্টের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্লেজার পরে শীতকে জয় করে নিচ্ছে তরুণ-তরুণীরা। অনেকে আবার অফিসিয়াল ড্রেস কোডের গণ্ডি পেরিয়ে শীত তাড়াতে ক্যাজুয়াল পোশাক হিসেবে ব্লেজার পরছেন।

যতই শীত আসুক না কেন, চাকরিজীবী পুরুষের সময়কে ধরে রাখতে পারে না। তাদের বেরিয়ে পড়তে হয় সময়মতো। শীতের সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন চালাতে হয়। তাই তাদের জন্য চাই এমন পোশাক যা শীতকে প্রতিরোধ করে এবং ফ্যাশনেবলও বটে। শীতের রাত হয় অনেক দীর্ঘ। এই সময় পুরুষের ফ্যাশনেবল পোশাক হচ্ছে কোট, ব্লেজার, জ্যাকেট। বর্তমানে শীতকালে সবশ্রেণীর পুরুষের পছন্দের পোশাক কোট, জ্যাকেট। এখন আপনার পছন্দের কোট, ব্লেজার কোথায় বানাবেন। আপনার বাজেট ও রুচির উপর নির্ভর করে শহরের অন্যতম বিখ্যাত টেইলার্সগুলো শীতের নানা পোশাক প্রস্তুত করে থাকে।

বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, ক্যাজুয়াল ব্লেজারের চাহিদা বেশি। রেডিমেড ক্যাজুয়াল ব্লেজারই নজর কাড়ছে সবার। ক্যাজুয়াল ব্লেজারে আছে বৈচিত্র্যের ছোঁয়া। কয়েক দিন পর পরই বদলাচ্ছে রূপ। ডিজাইনে আসছে নতুনত্ব। পোশাকের দোকানে শোভা পাচ্ছে পাঁচ বাটন হ্যান্ডস্টিচ, এমব্রয়ডারি, হাতের কাজ করা, বাটনলেস, এক বাটন, জ্যাকেট টাইপ, টপসিন, বেনকলার, শার্ট কলারসহ অসংখ্য ডিজাইনের ব্লেজার। বেশি চলছে কালো রঙের ছয় বাটন শার্টকলার ব্লেজার। বিভিন্ন ডিজাইনে মিশ্র ব্লেজারও পাওয়া যাচ্ছে। ব্ল্যাক, মেরুন, অ্যাশসহ বিভিন্ন রঙের ব্লেজার তৈরি করা হয়েছে পলিউল বা উইন্টার ফেব্রিকে। ডিজাইনে ছেলে বা মেয়েদের তেমন পার্থক্য নেই। তবে মেয়েদের কাটিংয়ে স্বাতন্ত্র্য আছে।

যেভাবে বা যেখানেই পরুন না কেন, ব্লেজারের কাটিং ও ফিটিংটা কিন্তু বেশি জরুরি। তাই তৈরি করে বা তৈরি করাটা—যা-ই হোক না কেন, মাপমতোই কিনতে হবে। কাঁধ ঝুলে যাওয়া যেমন চলবে না, তেমনি আবার হাত যেখানে শেষ এর থেকে আধা ইঞ্চি মতো শার্টের কাফ দেখা যাওয়া চাই। ব্লেজারের ফ্যাশনে এখন চলছে স্লিম ফিট ফ্যাশন। দুই বা তিন বাটনের ব্লেজারই সব সময় চলছে বাংলাদেশে। তবে এক বাটনের ব্লেজারও পরছেন ফ্যাশনেবল অনেকে। নিচে রাউন্ড শেপটাই এখন সবার পছন্দ। পেছনে দুই স্লিট ব্যবহার হচ্ছে এখনকার ফ্যাশনে। রাজধানী ও ঢাকার বাইরের শহরগুলোতেও আন্তর্জাতিকমানের ব্লেজার অথবা স্যুট কিনতে হলে খোঁজ করতে পারেন রেমন্ডস, ফিট এলিগেন্স, ক্যাটস আই, ওয়েস্টেকস, ইনফিনিটি, এক্সটেসি, মেনজ ক্লাব, রিচম্যানের মতো শো-রুমগুলোতে। দাম পড়বে রকমভেদে ৩০০০ টাকা থেকে ১৫০০০ টাকা পর্যন্ত! চাইলে এর চেয়ে ভালো মানের কাপড় কিনে তৈরিও করে নিয়ে পারেন ভালো কোনো টেইলার্স থেকে।

যারা কম দামে ব্লেজার কিনতে চান, তারা ঢুঁ মারতে পারেন বঙ্গবাজার, নিউমার্কেট, গুলিস্তান, বদরুদ্দোজা মার্কেটে। এখানে হাজার টাকার মধ্যেও ব্লেজার কেনা যাবে।

আর এর বাইরে মনে রাখা চাই, এর সাথে ক্যাজুয়াল শার্টই পরা হয়। এর সঙ্গে ব্লেজারটা বেশ ফ্যাশনেবল হতে পারে। একটু ভিন্নতা থাকতে পারে ব্লেজারের নকশায়। ন্যারো ফিটিং প্যান্ট পরতে পারেন। জিন্সও বেশ মানাবে। তবে জুতা ও বেল্টে আনুষ্ঠানিক ভাবটা থাকা চাই। যে ধরনের পোশাকই পরুন না কেন, শরীরের উচ্চতা, গঠন ও মুখের গড়ন বিবেচনায় রাখুন।