লক্ষণ দেখে বুঝুন আপনি অতিরিক্ত কাজ করছেন

0

(অনলাইন ডেস্ক)- কাজ পাগল মানুষ হওয়া খুব ভালো বিষয়। কিন্তু অতিরিক্ত কাজ করা অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। কারণ অতিমাত্রায় কাজ করতে গেলে আপনার সুখ নষ্ট হয়ে যাবে, নতুন এক গবেষণায় এ কথা বলেন ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার গবেষক মালিসা ক্লার্ক।

১. পরিবারের সঙ্গে থাকার সময়ও অপরাধবোধ কাজ করে : কাজ থেকে দূরে থেকে এমনকি পরিবারের সঙ্গেও সময় দিতে ভালো লাগে না? কিন্তু এভাবে কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে মানসিক সমস্যা দেখা দেবে। জার্মানিতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অফিসের কাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে বাইরে বেরুতে পারেন, তাদের সবচেয়ে সুখী সময় কাটান।

২. কাজের কাজ হচ্ছে না : যদি দিন-রাতের পুরো সময়টাই কাজে ব্যস্ত থাকেন, তবে খেয়াল করে দেখুন কাজের কাজ খুব বেশি হচ্ছে না। অতিরিক্ত কাজ করা হলে আসল কাজের কাজ হয় না। এতে করে স্ট্রেস বাড়ে। নির্দিষ্ট একটি কাজ মনোযোগ দিয়ে করা হলে তবেই তাতে সফলতা আসবে।

৩. চোখ দুটো লাল টকটকে : কাজ করতে করতে নাওয়া-খাওয়া-ঘুমের কথা ভুলে গেছেন। এমন অবস্থা হলে কাজ করেও তাতে সফলতা আনতে পারবেন না। ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া এর অপথালমোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. জোশুয়া দুনায়েফ বলেন, কাগজের লিখা বা বই বা কম্পিউটারের দিকে বহু সময় ধরে তাকিয়ে থাকলে চোখ দুটো লাল হয়ে যাবে। এতে করে দূরের কিছু দেখতে সমস্যা তৈরি হবে। তাই চোখ দুটোকে বিশ্রাম দিন।

৪. কাজের সূচি নিয়ে পরিবারের ক্রমাগত অভিযোগ : আপনি অতিমাত্রায় কাজ করতে থাকলে তা নিজের কাছে স্বাভাবিক মনে হবে। কিন্তু আপনার পরিবার ও বন্ধুরা দেখবেন, এ কাজের সূচি নিয়ে ঘনঘন অভিযোগ করছেন। একজন স্বামী ও বাবা হিসেবে আপনি নিজের অজান্তেই নিজের দায়িত্ব ভুলে গেছেন। এ বিষয়টি চোখে পড়বে অন্যদের। যারা এভাবে অতিরিক্ত সময় কাজ করে যান, তাদের মাঝে বিচ্ছেদের হারও বেশি দেখা যায়।

৫. অফিসে সবচেয়ে দেরিতে আপনিই বের হন : যদি আপনার অফিসে সবাই সপ্তাহে ঘণ্টায় ৬০ ঘণ্টা কাজ করে থাকেন, তবে আপনাকেও সে দলে যোগ দিতে হবে। কিন্তু একমাত্র আপনিও যদি অফিস থেকে সবচেয়ে দেরিতে বের হন, তবে বুঝতে হবে এ দলে আপনি একাই রয়েছেন। যতটুকু প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি বেশি কাজ করছেন আপনি। এতে করে শুধু সময়ের অপচয়ই হবে না, যতটুকু কাজ করতে চান ততটুকু সফল হতে পারবেন। স্ট্রেস বাড়বে, মস্তিষ্কে চাপ পড়বে এবং কাজে আসল মনযোগ ঢালতে পারবেন না।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার