শিশুকে কীভাবে সুস্থ রাখবেন

0

ডা. মোহম্মদ আবুল হাসনাত
ছোট শিশুদের অসুখ লেগেই থাকে। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনে তাদের দেহ-মন পরিবর্তিত আবহাওয়ায় খাপ খাওয়াতে পারে না। ফলে সারা বছর কোনো না কোনো অসুখে তারা ভোগে। গ্রামের চেয়ে শহরের শিশুরা বেশি রোগে ভোগে। প্রতিটি শিশুর মা-বাবা অসুখ হলেই তাড়াতাড়ি ওষুধ খাওয়ানো শুরু করেন। শিশুদের ক্ষেত্রে ওষুধের অপব্যবহার বেশি হয়। বারবার ডাক্তার পরিবর্তন, নিজে নিজে বা ওষুধের দোকানদারের পরামর্শ বেশি গ্রহণ করার ফলে শিশুরা অ্যান্টিবায়োটিকে রেজিস্টেন্স বা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ফলে একই অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার সেবনে কাজ করে না। জ্বর হলে ২টি দিন দেখা উচিত নিজেই সারে কি না। এতে শিশুর দেহে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধের প্রতিষেধক তৈরি হয়।

গ্রামে বা দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধের প্রতিষেধক দেহে বেশি থাকে। তাই জ্বর এমনিতেই সেরে যায়, রোগবালাইও কম হয়। শিশুরা ফল খেতে ভালোবাসে। তাজা ও শুকনো ফল তাদের বিভিন্ন অসুখে বেশ কাজ করে। তাজা ফলের মধ্যে কমলালেবু, আঙুর, কলা, আপেল, পেয়ারা, ডালিম, শুকনো ফলের মধ্যে বাদাম নিয়মিত খাওয়ালে শিশু সুস্থ থাকে, রোগও কম হয়, জীবনী শক্তিও বাড়ে। যেসব শিশু মায়ের দুধ কম পায় বা একবারেই পায় না, তারা বেশি দুর্বল থাকে। ওই শিশুদের নিয়মিত কমলালেবুর রস ও পাকা কলা খাওয়ালে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় এবং বিভিন্ন অসুখ থেকে ভালো থাকে। তবে বেশি বেশি খাওয়ালে পেট খারাপ হতে পারে বা পায়খানা শক্ত হতে পারে।

শিশুর ওজন বাড়াতে গরু বা ছাগলের টাটকা দুধ সামান্য গরম পানি ও কমলালেবুর রস মিশিয়ে খাওয়ালে সর্দি-কাশি তথা বিভিন্ন অসুখ থেকে শিশুরা মুক্তি পায়। বাংলাদেশের মায়েদের শতকরা প্রায় ৮০ জনের বুকে পর্যাপ্ত দুধ থাকে না। এ জন্য শিশুর স্বাস্থ্যও খারাপ থাকে। কমলালেবুতে পর্যাপ্ত ভিটামিন থাকায় নিয়মিত শিশুর মাকে কমলালেবুর রস খাওয়াতে পারলে বুকের দুধ বাড়ে।

প্রতিদিন এক চামচ করে আঙুরের রস খাওয়াতে পারলে শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য রোগ ভালো হয়, শরীরে শুকনো ভাব, শুকনো কাশি, অকারণে কান্না, ঘ্যানঘ্যানানি ভাবও কমে। দাঁত ওঠার সময়ে এ রস দাঁতের বেশ উপকার করে। যেসব শিশুর তড়কা বা ফিট হওয়ার মতো রোগ থাকে, তাদের দিনে ৩ বার আঙুরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ালে তাড়াতাড়ি এ অসুখের হাত থেকে মুক্তি পাবে, হাসি-খুশি থাকবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, আঙুরের রস বেশি খাওয়ালে শিশুর পেট খারাপ  হতে পারে। স্কার্ভি ও চর্মরোগে কগুজিলেবুর রস, মধু ও কডলিভার অয়েল মিশিয়ে খাওয়ালে বেশ উপকার হয়।