ট্রিসমাস রোগের কারন ও চিকিৎসা

0

ট্রিসমাস রোগের কারন ও চিকিৎসা
ট্রিসমাস রোগের কারন ও চিকিৎসা
॥ ডাঃ বর্ষা ইসলাম ॥  হাম দেয়া বা অন্যকোন কারনে হঠাৎ করে কোন ব্যক্তি হাঁ করে মুখ খুলতে পারছে না অথবা খোলা মুখ হাঁ করেই আছে, আর বন্ধ করতে পারছে না। মেডিকেলের ভাষায় এর নাম ‘ট্রিসমাস’। এই অবস্থা কারও ক্ষেত্রে সাময়িক সময়ের জন্য ঘটে, কারও বেশ দীর্ঘস্থায়ী হয়। এখানে পঞ্চম কেন্দ্রীয় স্নায়ু নার্ভ জড়িয়ে যায়, যা ম্যানডিবেলের সেনসরি ও কিছু মোটর ফাংশনে দায়িত্ব পালন করে।
 
কোনো কোনো সময় এটি তীব্র ব্যাথা সৃষ্টিকারী ও খুবই অস্বস্তিকর। হাই তুলতে ভীষণ কষ্ট, দাঁত ব্রাশ করা যাচ্ছে না, খেতে ও পানীয় পানে বেশ দুরবস্থা হয়। যদি সঠিক চিকিৎসা না পায়, তবে চিবানো বা সাবলীল কথা বলার শক্তি সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হতে পারে।
 
চোয়ালের মাংসপেশিতে প্রদাহ-বিশেষত আক্কেল দাঁতসংলগ্ন মাংসপেশির প্রদাহে, যেখানে এই দাঁত না উঠে পুঁজের আধার তৈরি হয়। অতিরিক্ত মানসিক চাপে দাঁতে দাঁত লাগা পরিস্থিতি- টেমপেরো মেনডিবুলার জয়েন্ট খিল লেগে যায়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে, কিছু কিছু ওষুধ সেবনে এমডিএমএ ও অন্যান্য এমফিটামাইনস এর কারনে এই রোগ হতে পারে।

এই রোগ কোনো সময় আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। তবে সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার আশ্রয় নেয়াই উত্তম। গরম জলে ভেজা তোয়ালে দিয়ে একটু গরম ভাপ দেয়া। ডেন্টাল সার্জারি, বিশেষত আক্কেল দাঁত গেড়ে বসে থাকলে। ফিজিক্যাল থেরাপির মাধ্যমে। মাংসপেশির দৃঢ় অবস্থার জন্য লাগবে অ্যান্টি প্রদাহ ওষুধ।
 
খাবার ধীরে-সুস্থে চিবিয়ে খাওয়া, চাপমুক্ত থাকা, ধনুষ্টঙ্কারের টিকাদান, এমফিটামিনস এবং এ-জাতীয় ওষুধ সেবন সম্পর্কে সচেতন থাকা ইত্যাদি ভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়।