শিশুদের অ্যাজমার অনসর্গ, কারন ও করনীয়

0

শিশুদের অ্যাজমার অনসর্গ, কারন ও করনীয়
শিশুদের অ্যাজমার অনসর্গ, কারন ও করনীয়
॥ নাসরীন সুলতানা ॥  শিশুদের মধ্যে সর্বাধিক দৃশ্যমান শ্বাস প্রশ্বাসজনিত সমস্যাগুলো হচ্ছে অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানী। অ্যাজমা একটি শিশুর জীবনের গুনগত মানের উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং শিশু প্রায়শই স্কুলে অনুপস্থিত ও খারাপ ফলাফলের জন্য অ্যাজমা অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি।

আপনার শিশু কি অ্যাজমায় আক্রান্ত? দেখে নিন অ্যাজমার অনসর্গগুলো।

১) শ্বাস ত্যাগের সময় বাঁশির মত শব্দ যদি প্রতিনিয়ত হয়
২) কাশি, বিশেষকরে রাতে
৩) নিয়মিত শ্বাস কষ্ট
৪) প্রতিনিয়ত বুক বন্ধ ভাব

শিশু বয়সে অ্যাজমার কারণসমূহ:

১) ভাইরাল ইনফেকশন
২) পশমী জন্তু, যেমন বিড়াল, কুকুর
৩) সিগারেট বা কাঠের ধোঁয়া
৪) ঘরের ভেতরের জাজিম, বালিশ বা কার্পেটের ধূলা
৫) পুষ্পরেণু, পোকামাকড় যেমন তেলাপোকা
৬) তাপমাত্রা পরিবর্তন
৭) অ্যারোসল, সুগন্ধী সামগ্রী
৮) অ্যাসপ্রিন জাতীয় ওষুধ
৯) ব্যায়াম, মানসিক যন্ত্রণা

রোগী এবং বাবা মা’র অবশ্য করণীয় :

১) নিয়মিত ওষুধ খাওয়া
২) নেবুলাইজার ও স্পেসার যন্ত্র সঠিক নিয়মে ব্যবহার
৩) ক্ষণস্থায়ী এবং দীর্ঘমেয়াদী ওষুধের পার্থক্য জানা
৪) বার বার ওষুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা
৫) পিইএফ দ্বারা রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ :
৬) হাঁপানীর উপসর্গগুলো ভালোভাবে চিনে রাখা এবং রোগীর শারীরিক অবনতিতে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া
৭) চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া
৮) অ্যালার্জি উদ্রেক করে এ ধরনের পরিবেশ থেকে যতদূর সম্ভব দূরে থাকা।

অ্যাজমার প্রতিরোধযোগ্য নিয়মাবলী :

১) বিছানার চাদর, কম্বল ইত্যাদি সপ্তাহে একবার গরম পানিতে ধূয়ে সূর্যের তাপ বা গরম বাতাসে শুকাতে হবে। ঘরে কার্পেট ব্যবহার করা যাবে না।
২) ধূমপান জনিত ধোঁয়া প্রতিরোধ এবং বাবা-মা’র ধূমপান বর্জন করতে হবে
৩) গৃহপালিত প্রাণী কুকুর ও বিড়াল বাড়ী থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে
৪) সমস্ত বাড়ী এবং বাড়ীর চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে
৫) মুখে ধূলা প্রতিরোধক মাস্ক ব্যবহার এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত গাড়ী বর্জন করতে হবে

তথ্য-
প্রফেসর সেলিম সাকুর
শিশু বিশেষজ্ঞ
ইউনাইটেড হাসপাতাল, গুলশান, ঢাকা।