কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে করণীয়
কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে করণীয়
॥ ই-হেলথ২৪ ডেস্ক ॥  কিডনিতে পাথর হওয়ার কারণগুলো জটিল, মাল্টিফ্যাকটোরিয়াল এবং এখনও বেশ স্পষ্ট নয় চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছে। চিকিৎসা বিজ্ঞান বলে, ইউরিনারি স্টোনের উপাদান হচ্ছে কৃস্টালয়েড ও অরগানিক ম্যাট্রিক্স।মূলত ইউরিন সুপার সেজুরেটেট হলে কিডনিতে পাথর তৈরি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।এই সুপার সেজুরেসন নির্ভর করে ইউরিনের চক্র, আয়নিক স্ট্রেন্থ এবং সলুউটের ঘনত্বের ওপর।
 
জানা যায়, ইউরিনে কিছু স্টোন ইনহিবিটর থাকে যাদের উপস্থিতির হেরফেরের কারণে পাথর হতে পারে।সাধারণত কিডনি বা মূত্রতন্ত্রের পাথর হলে ৭৫ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ব্যথা নিয়ে আসতে পারে।তীব্র ব্যথা হঠাৎ করে শুরু হয় এবং এ ব্যথা মেরুদণ্ডের পাশে বুকের খাঁচার নিচে অনুভূত হয়।এ ব্যথা পেটের সামনের দিকেই অনুভূত হতে পারে।এ ব্যথা পাথরের অবস্থানের তারতম্যের জন্য অনুভবের স্থানেরও তারতম্য হয়।
 
পাথর ওপর বা মধ্য ইউরেটারে থাকলে ব্যথা কিডনি বরাবর জায়গা থেকে শুরু হয়ে পেটের নিচের দিকে অনুভূত হতে থাকে।পাথর ইউরেটারের নিচের দিকে থাকলে ব্যথা অনুভূত হয় এবং এ ব্যথা পুরুষের ক্ষেত্রে টেস্টিস বা অন্ডোকোষে এবং স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে ল্যাবিয়া মোজোরাতে অনুভূত হয়।পাথর ইউরেটার ও ইউরিনারি ব্লাডারের অন্তর্বর্তী স্থানে হলে ব্যথা অনেক সময় প্রোস্টাটাইটিস, সিসটাইটিস বা ইউরেথ্রাইটিস হিসেবে ভুল হতে পারে।

কিডনিতে পাথর আছে কিনা তা বেশ কিছু লক্ষণের মাধ্যমে বোঝা যায়। যেমন, রক্তবর্ণ ও ঘনঘন প্রস্রাব।তবে তার সঙ্গে এই রক্ত যাওয়া কখনও কখনও খালি চোখে দেখা নাও যেতে পারে।এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাব জ্বর বা প্রস্রাবের জ্বালা-যন্ত্রণা নিয়ে অনেকে আসতে পারে। প্রস্রাব পরীক্ষা, এক্সরে, আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় সাহায্যে এ রোগ নির্ণয় করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, কিডনিতে একবার পাথর হলে তা বার বার হতে পারে।তাই কিছু সতর্কতা অবলম্বন করে এর পুনরাবৃত্তির হার কমিয়ে আনা যায়।সাধারণত যেসব এলাকায় গরম বেশি সেসব জায়গায় লোকদের মধ্যে কিডনি পাথর বেশি দেখা যায়।এর কারণ হচ্ছে প্রধানত অতিরিক্ত গরমের ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়।ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়।এতে শরীর বৃত্তির কার্যকারণে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।তাই এসব ক্ষেত্রে পানি বেশি খেতে হবে।পানি খাবার পরিমাণ খাদ্য গ্রহণের ৩ ঘণ্টার মধ্যে বেশি হতে হবে, যখন প্রচুর পরিশ্রম করা হয় তখনও পানি বেশি খেতে হবে।পানির পরিমাণ এমন হতে হবে যাতে ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাবের পরিমাণ ৩ লিটার বা তার বেশি হয়।
 
এছাড়া যাদের কিডনিতে বার বার পাথর হয় তাদের দৈনিক প্রোটিন গ্রহণ বেশি না করা শ্রেয়।আঁশ যুক্ত খাবার যেমন, গম, সয়া, চালের ভূষি স্টোন রিকারেন্স কমায়।যেসব খাদ্যে ক্যালসিয়াম ও অক্সালেট বেশি আছে যেমন, দুধ, পনির ইত্যাদি রিকারেন্ট স্টোনের রোগীদের কম খাওয়া উচিত।

সূত্র: ইন্টারনেট