দিনে একটি আপেলে রোগ মুক্ত জীবন!

0
Red Apples with green leaf on white. This file is cleaned, retouched and contains clipping path.

ইংরেজীতে একটি প্রবাদ আছে—“An apple a day, keeps the doctor away”. অর্থাৎ দিনে একটি আপেল খেয়ে চিকিৎসককে দূরে রাখুন। গুণাগুণ না থাকলে কোনো ফলকে ঘিরে একটি প্রবাদ তৈরি হওয়ার কথা নয়। বুঝতেই পারছেন প্রতিদিন আপেল খাওয়ার গুরুত্ব কতখানি? আপেলে এত সব পুষ্টি উপাদান আছে, যা অন্য কোনো ফলে নেই।

আপেল একটি অত্যন্ত পরিচিত ফল, যা সব যায়গায় পাওয়া যায়| দিনে এক থেকে দুইটি আপেল খেলে হার্টের সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়| গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে যে– দিনে একটি আপেল খেলে রক্তের ক্ষতিকর LDL Cholesterol কমে।

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, আপেল কোলস্টেরল কমাতে এবং ক্যান্সার রোধেও সহায়তা করে। ফল হিসেবে তো আপেল খাওয়া হয়ই, এছাড়া বিভিন্ন রান্নার সঙ্গে, জেলি, সালাদ, আচার, জুস, কেক, চকলেট এবং আরো অনেক রকমভাবে খাওয়া যায়!

আপেলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’, যা প্রতিদিন মানুষের শরীরে প্রয়োজন। সম্ভবত পরিবেশ দূষণের কারণে আজকাল অনেক মানুষের আপেল-অ্যালার্জি দেখা দেয়৷ সেক্ষেত্রে আপেল সরাসরি না খেয়ে সেদ্ধ বা রান্না করে খাওয়ার পরামর্শ দেন ডাক্তাররা।

আপেলে যেহেতু ভিটামিন, মিনারেল এবং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেককিছু রয়েছে, তাই আপেল খেয়ে ডায়েটিং করা বা ওজন কমানো সম্ভব।

কেন আপেলের এত গুন?
আপেল প্রথমত: খেতে খুবই সুস্বাদু, সহজে ক্ষুধা নিবারণ করতে এই ফলের জুড়ি নেই। অন্য ফাস্ট/junk ফুড বা মিষ্টি খাবার খাওয়ার চেয়ে, মিষ্টি, কচকচে আপেল খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করা অনেক ভালো। কারণ এতে মাত্র ৭০-১০০ ক্যালরি আছে| অফিসে, কাজের ফাকে বা পড়াশুনার ফাকে স্ন্যাকস হিসাবে একটি আপেল খেয়ে নিতে পারেন।
এতে প্রচুর ফাইবার আছে, যা হজমের জন্য ভালো| তাই bowel পরিষ্কার রেখে, কোলন ক্যান্সার হতে দেয় না|
এতে carbohydrate, sugar, folic acid, potassium, calcium, B vitamins, iron, magnesium, ও zinc আছে।

আপেলে পেকটিন নামক ফাইবার আছে, যা সহজে তরলে মিশে যায়। এই ফাইবার অন্ত্র নালিতে cholesterol জমতে দেয় না, এবং শরীর থেকে cholesterol খরচ করে কমাতে সাহায্য করে। এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে| এটি ব্লাড প্রেসার ও রক্তের glucose/ sugar নিয়ন্ত্রণ করে। coronary artery disease ও diabetes এর রোগীরা তাই এটি খেলে উপকার পান। এটি হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরীতে সাহায্য করে। তাই এটি হজম শক্তি বৃধ্ধ্বি করে ও ঠিক রাখে আপেলের খোসায় polyphenols নামক antioxidant আছে, যা কোষকে ধ্বংশ হয়ে দেয় না।

আপেলে phenols আছে, যা LDL Cholesterol কমায় ও ভালো cholesterol HDL বাড়ায়। আপেলে পর্যাপ্ত boron আছে, যা হাড়কে শক্ত রাখতে সাহায্য করে ও ব্রেইনের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে আপেলে আছে flavonoid, যা antioxidant, এটি রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে, হার্টের অসুখ ও ক্যান্সার হতে রক্ষা করে আপেলে Quercetin আছে, যা একটি flavonoid, এটি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হতে শরীরকে রক্ষা করে। এই পুষ্টি উপাদানটি free radical ধ্বংশ হতে রক্ষা করে| তাছাড়া এটি DNA ধ্বংশ হতেও রক্ষা করে। Free radical ধ্বংশ হতে রক্ষা করার জন্য, বার্ধক্য জনিত রোগ, যেমন: Alzheimer’s হতেও এটি রক্ষা করে।

আপেলে প্রচুর Phytonutrients, যেমন: ভিটামিন A, E ও beta carotene আছে| এগুলো ও free radical ধ্বংশ হতে, ব্রেইনের অসুখ হতে বাধা দেয়, ফুসফুস ভালো রাখে ও শ্বাস প্রশ্বাস প্রক্রিয়া ভালো রাখে | ফলে শরীর অনেক রোগ থেকে মুক্তি পায় , যেমন: হার্টের অসুখ , Diabetes ও Asthma , Parkinsonism , Alzheimer’s.

গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে একটি করে আপেল খেলে রক্তের ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমে যায় ও উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল বাড়ে। আপেলে শর্করা, চিনি, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি, লোহা ও ম্যাগনেশিয়াম আছে। এটি রক্তচাপ ও রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। তাই হৃদ্রোগী ও ডায়াবেটিস রোগীরা আপেল খেলে উপকার পাবেন। এটি হজমের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরিতে সাহায্য করে। হজমশক্তিও বাড়ায়। আপেলের খোসায় পলিফেনলস নামে অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট আছে, যা শরীরের কোষ রক্ষা করে।

আপেলে কোয়েরসিটিন নামের ফ্ল্যাভেনয়েড আছে। যা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হতে শরীরকে রক্ষা করে। পাশাপাশি এই পুষ্টি উপাদান শরীরের অভ্যন্তরে মুক্ত অণু (ফ্রি র্যাডিক্যাল) ধ্বংস করে শরীরকে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। আপেলে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন আছে, যা মস্তিষ্ক ভালো রাখে, ফুসফুসও সতেজ রাখে। হাঁপানি ও আলঝেইমারস রোগও প্রতিরোধ করে এই ফল। আপেলে থাকা ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে। এটি যকৃৎ ভালো রাখে। জ্বর হলে এই ফল খেলে তা কমাতে সাহায্য করে। তাই জ্বরের রোগীরা আপেল খেলে ভালো বোধ করেন। আপেলের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে কফ দূর হয়। প্রচুর পানি থাকায় আপেল ডায়রিয়া হলে সারাতে সাহায্য করে। আপেলের রস দাঁতের জন্যও ভালো। কারণ, আপেলের রস দাঁতের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। সবুজ, সোনালি, লাল, যেকোনো রকম আপেল থেকেই উপকারিতা পাওয়া যায়।

অন্যান্য ফলের মত আপেলের চিনি রক্তের চিনির মাত্র বাড়িয়ে দেয় না। ফলে diabetes এর রোগীরা নিশ্চিন্তে পরিমানমত আপেল খেতে পারেন। আপেলে কোনো লবন নেই, তাই আপেল থেকে অতিরিক্ত লবন খাবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

দিনে অন্তত একটি হলেও তাই আপেল খাওয়া উচিত| দুটি হলেও ক্ষতি নেই। তাই আপনার প্রতিদিনের ব্যালান্স ডায়েটে অবশ্যই একটি আপেল রাখুন। আমাদের প্রতিদিন সবজি ও ফল খেতে হবে।