পেটের মেদ কমায় : উষ্ট্রাসন

0

পেটের মেদ কমায় : উষ্ট্রাসন
পেটের মেদ কমায় : উষ্ট্রাসন
॥ তানভির আহমেদ ॥  উষ্ট্রাসন আসনটি নিয়মিত অভ্যাস করলে পুরা শরীরের ও মনের উন্নতি হয়| এটি মূলত: শরীরের মধ্যভাগের বা পেটের মেদ কমিয়ে শরীরকে সুগঠিত করে। তবে এটি পুরো শরীরেরও স্ট্রেচিং করে|

উষ্ট্রাসনএর ধাপ সমূহ :

১) যোগ ব্যায়ামের নিয়মে শরীর ওয়ার্ম আপ করে নিন| তাই সুর্য নমস্কার করতে পারেন কয়েকবার|

২) এবার এই আসনটি করতে প্রথমে বজ্রাসনে বসুন।

৩) তারপর হাঁটু ভেঙ্গে পায়ের পাতা থেকে হাঁটু পর্যন্ত মাটিতে রেখে, হাঁটু বরাবর হাঁটুতে ভর দিন/হাঁটুতে ভর দিয়ে দাঁড়ান, মেরুদন্ড ও ঘাড় সোজা করে আসন নিন| ধীরে দম নিন|

৪) এবার আস্তে আস্তে প্রথমে ডান হাত শরীরের পেছনে নিন ও ডান পায়ের গোড়ালি বা পায়ের পাতা ধরুন| প্রাথমিক অবস্থায় পায়ের গোড়ালি ধরবেন, পরে পায়ের পাতা ধরতে চেষ্টা করুন|

৫) এবার বাম হাত দিয়ে বাম পায়ের গোড়ালি বা পায়ের পাতা ধরুন|
 
৬) এইবার ধীরে ধীরে প্রথমে ঘাড়, পরে বুক ও মাথা ধীরে পেছন দিকে নিন| এই অবস্থায় পেট থেকে মাথা পর্যন্ত দেখতে ধনুকের মত বাঁকা দেখাবে| এই আসনে থেকে ২০-৬০ গুনুন|

৭) তারপর ধীরে ডান হাত গোড়ালি থেকে উঠিয়ে সামনে নিন, তারপর বাম হাত সামনে নিন|

৮) এবার শরীর সোজা করুন ও হাঁটুর উপর  ভর দিয়ে প্রথম অবস্থায় দাঁড়ান আসন নিন| হাত দুটো হাঁটুতে রাখুন|
স্বাভাবিকভাবে ও মনোযোগ সহকারে শ্বাস নিন|

উষ্ট্রাসনএর উপকারিতা :

১) শরীরের পুরো সামনের অংশ, অর্থাৎ পেট, কোমর, নিতম্ব, বুক, মাসেলের জন্য উত্তেজক হিসাবে কাজ করে ও এই সব মাসেলের ব্যায়াম হয় ও তাই এই মাসেল গুলো ভালো থাকে, ও সুন্দর আকার/সেপ হয়|

২) পায়ের গোড়ালি, মেরুদন্ড, থাই, ঘাড়, কাঁধ, গলা, হিপ, কুঁচকি, কোমর, হাঁটু, হাত ইত্যাদি মাসেলের ব্যায়াম হয় ও সুন্দর সেপ হয় এবং এই মাসেলগুলোর স্ট্রেচিং হয় ও শক্তিশালী হয়|

৩) মেরুদন্ডের খুব ভালো ব্যায়াম হয়| মেরুদন্ডের সাথে জড়িত সব মাংসপেশী ও নার্ভের ব্যায়াম হয়| এগুলো সতেজ ও সক্রিয় রাখে। লোয়ার ব্যাক থেকে শুরু করে, সমস্ত মেরুদন্ড, ঘাড়, মুখ, ইত্যাদির ভালো ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং হয়|

৪) মেরুদন্ডের সামনের দিকে বাকা হাড় ঠিক করতে সাহায্য করে। যাদের দীর্ঘস্থায়ী মেরুদন্ডের হাড়ের সমস্যা আছে জন্য এই আসনটি খুব ভালো কাজ করে|
   
৫) যারা বুকের গঠন ঠিক করতে চান, তাদের জন্য আসনটি অনেক ভালো কাজ করে।

৬) চিকিৎসাবিদ্যাগত উপকারিতার মধ্যে আছে শ্বাস-প্রশ্বাসের অঙ্গের বা ফুসফুসের ও হৃৎপিন্ডের সমস্যা দূর করে, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
   
৭) শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করার ফলে, হাপানির, শ্বাসনালীর প্রদাহমূলক ব্যাধি রোগীদের জন্যে আসনটি নিয়মিত করলে ভালো ফল পাওয়া যায়|
 
৮) এটি কিডনি ও ব্লাডার কে ম্যাসাজ করে, ফলে এই অঙ্গগুলো ভালো থাকে| কিডনির  Genito-urinary disorder দূর করে, urinary bladder ভালো রাখে।

৯) ব্যাক পেইন দূর করে| নিয়মিত এই আসন চর্চা করলে, ব্যাক পেইন বা পিঠের ব্যথা, ইনজুরি ইত্যাদির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়|
  
১০) খেলোয়াড়রা এই আসন নিয়মিত করলে, মেরুদন্ডের স্থিতিস্থাপকতা, গতিশীলতা, ইনজুরি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা যায়|

১১) এই ব্যায়ামে মাথায় ও ঘাড়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ফলে জ্ঞানেন্দ্রি় সম্বন্ধীয় অঙ্গ গুলো উদ্দীপিত হয় ও কাজ করে| ফলে চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে| ব্রেইনে রক্ত সরবরাহ করে, ফলে স্মৃতি শক্তি বাড়ে, মনোযোগ বাড়ে| উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, অবসাদ, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি দূর করে|

১২) তাই মানসিক ফিটনেস বাড়ায় বা মনের অবসাদ দূর করে, অন্যের প্রতি সমবেদনা ও ভালোবাসা বাড়ায়|
   
১৩) হরমোনের কার্জপ্রক্রিয়াও বাড়ে, ফলে pituitary, pineal, thyroid, parathyroid, adrenal, tonsil গ্রন্থিগুলো সুস্থ ও সক্রিয় রাখে| তাই এই গ্রন্থীগুলোতে যাদের সমস্যা আছে, তারা এটি নিয়মিত করলে, ভালো ফল পান।

১৪) পেটের মাসেল গুলোর ব্যায়াম হবার ফলে, পাকস্থলী ও অন্ত্রের স্ট্রেচিং হয়, ফলে হজম প্রক্রিয়া বাড়ে বা হজমের সমস্যা দূর করে| ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়|

১৫) পশ্চার বা অঙ্গবিন্যাস ঠিক হয়, ক্ষয় হয়ে যাওয়া বা ঝুলে পড়া ঘাড়ের জন্যে ভালো কাজ করে, মহিলাদের ডিম্বাশয়(ovary) ভালো থাকে, ফলে প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে, মহিলাদের অন্ত:স্রাবি মাংশগ্রন্থী বা  endocrine glands গুলোতে উদ্দীপনা করে, ফলে এগুলো ভালো থাকে। ফলে আসনটি নিয়মিত অভ্যাস করলে, সহজে কোন মেয়েলি অসুখ হতে পারে না।

১৬) ছেলেদের ক্ষেত্রে prostate গ্রন্থি ভালো রাখে, শরীরের শীত ও গরম সহ্যশক্তি বাড়ায়। গলার ব্যায়াম হয়, ফলে গলার স্বর ভালো রাখে।
  

উষ্ট্রাসন সাবধানতা :

১) যারা যোগ ব্যায়ামে মধ্যবর্তী/অগ্রবর্তী তাদের জন্য| তবে যারা নতুন তারাও করতে পারেন|

২) আসনটিতে করার সময় বুকে খুব বেশি চাপ পড়ে, তাই যাদের হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস দুর্বল বা কোনো সমস্যা আছে, তাদের জন্য আসনটি করা উচিৎ নয় বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত।

৩) যাদের বেশি মাত্রায়  lumbago / কটিবাত আছে, যাদের  thyroid গ্রন্থি বড় হয়ে গেছে, তারা এই আসনটি না করাই ভালো|

৪) যাদের ঘাড়ে খুব ব্যথা, লো ব্যাকপেইন আছে, তারাও এটি করবেন না| যাদের খুব উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ আছে, তারাও এই আসনটি করবেন না| যাদের হার্টের অসুখ আছে তারাও এটি না করাই ভালো যাদের পেটে অস্ত্রপচার হয়েছে তারা এটি ডাক্তারের পরামর্শ মতো করবেন

৫) গর্ভবতী মহিলারাও এটি ডাক্তারের পরামর্শমতো করবেন, গর্ভকালীন দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে এটি না করাই ভালো
আসনটি করার সময় ধীরে করবেন, তাড়াহুড়ো করবেন না,কোনো অঙ্গে যেনো অতিরিক্ত টান না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন|

৬) হাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি ধরার সময় ও শরীর পেছনে বাকানোর সময় ব্যালান্স ঠিক মতো রাখুন| দম নেয়া ও ছাড়ার ব্যাপারটি ভালো মতো মেনে চলতে হবে।

৭) যারা এই আসনটিতে নতুন তারা এই আসনে ২০ সেকেন্ডের বেশি থাকবেন না, কারণ তাহলে পেশিতে বেশি টান লাগতে পারে। যাদের মাইগ্রেনের ব্যথা হচ্ছে, তারা এটি করলে আরো ব্যাথা বাড়তে পারে।