রোজার সময় দাঁত ও মাঢ়ির যত্ন

0

রোজার সময় দাঁত ও মাঢ়ির যত্ন
রোজার সময় দাঁত ও মাঢ়ির যত্ন
॥ রাসেল আহমেদ ॥  রোজার সময় দাঁত ও মাঢ়ির যত্নে বছরের অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি সচেতন থাকতে হয়। কারণ রোজায় দীর্ঘ ১৪/১৫ ঘণ্টা অনাহারে থাকতে হয়, এসময় পানি বা কোন তরল পান করা যায় না। ফলে মুখগহ্বর শুষ্ক থাকে এবং কুলি বা পানি পান না করার জন্য দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যাংশ ব্যাকটেরিয়া তৈরি ও এস্থানে জমে থাকতে সাহায্য করে।

দাঁতের ফাঁকে এভাবে দীর্ঘক্ষণ ব্যাকটেরিয়া জমে থাকলে মাঢ়ির রোগ পেরিওডেন্টাল পকেট সৃষ্টি হয়। এর ফলে মুখে দুর্গন্ধ হয় এবং খাদ্যের কণা মাঢ়ির ভেতর ঢুকে তীব্র দাঁতব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। এটি প্রতিরোধের জন্য রমজান মাসে যা করতে হবে, তা হল-

১. ইফতার ও সেহরি খাওয়ার পর দাঁত অবশ্যই পেস্ট দিয়ে ব্রাশ করতে হবে। বিশেষ করে দুধ খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করতেই হয়।

২. রোজাকালীন সময়ে ওজু করার সময় পানি দিয়ে দাঁত ভালোভাবে কুলকুচি করতে হবে।

৩. সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ব্রাশের ব্রিসলস পানিতে ভিজিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।

৪. দাঁত ও মাঢ়ির সুস্থতায় ইফতারের সময় আঠালো ও মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন জিলাপি না খাওয়াই ভালো। ফল দাঁতের জন্য উপকারী।

যারা দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন বা সম্প্রতি রুট ক্যানেল করিয়েছেন তারা রোজা রাখতে পারবেন তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এন্টিবায়োটিক ও পেইন কিলার ইফতার ও সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে খেয়ে নিতে হবে। মনে রাখবেন দাঁতের ব্যথা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর সঠিক চিকিৎসার জন্য দাঁত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যাদের দাঁতের গোড়ায় পুঁজ জমে দাঁত ব্যথার সৃষ্টি করে তাদের জন্য রোজা রাখা কষ্টকর। এ অবস্থায় চিকিৎসক দেখিয়ে দাঁতের পুঁজ বের করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ মাসে দাঁত পরিষ্কারের জন্য স্কেলিং ইফতারের পরে করা যেতে পারে। কারণ রোজা রেখে স্কেলিং করালে দাঁতে রক্তরণ হতে পারে, যার ফলে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়। দাঁতের ফিলিং ও রুট ক্যানেল চিকিৎসায় প্রথম ধাপের চিকিৎসা ইফতারের পরে করতে হয়। কারণ এসময়ে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার প্রয়োজন হয় এবং বিডিং হতে পারে। তবে পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা রোজা রেখেও করা যায়।

তথ্য-
ডা. মো. রিয়াজুল আহসান
ডেন্টাল সার্জন, ইন্টিমেট ডেন্টাল কেয়ার, ঢাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*