কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা গরুর মাংস খেলে মানুষও মোটাতাজা হতে থাকে

0

নিজস্ব প্রতিবেদক// কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংস খেলে মানুষও মোটাতাজা হতে থাকে। কারণ, স্টেরয়েড-জাতীয় রাসায়নিক মানুষের শরীরে বেশি মাত্রায় জমা হলে মানুষের বিপাক ক্রিয়াতে এর প্রভাব পড়ে।

শনিবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত পবা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় আলোচকেরা এ কথা বলেন। পবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরুর মাংসের ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, ওই সব মাংস খাওয়ার ফলে মোটাতাজাকরণের ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ মানবশরীরে ঢোকে। এতে মানুষের কিডনি, লিভার, হৃৎপিণ্ডসহ অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আলোচকেরা বলেন, অতি লাভের জন্য কিছু অসাধু মানুষের কার্যকলাপে কোরবানির গরুর মাংস মানুষের, বিশেষভাবে শিশু ও গর্ভবতী নারীর জন্য প্রতিবছর দুঃখজনক পরিণতি বয়ে আনছে। এ ধরনের অপরাধ হলো মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মানবজীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এসব কর্মকাণ্ড থামানো এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

দেখতে মোটাতাজা, কিন্তু নির্জীব, শ্লথ ও ক্লান্ত দেখায়—এ ধরনের গরু কেনা থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেন আলোচকরা।

আলোচকরা বলেন, গরু মোটাতাজা করার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি রয়েছে। এই পদ্ধতিতে ইউরিয়া, চিটাগুড়, ধানের খড় মিশিয়ে গরুকে খাওয়ানো হয়। এই পদ্ধতিতে মোটাতাজা করার জন্য ৪ থেকে ৫ মাস সময় লাগে। কিন্তু লোভী ব্যবসায়ীরা ৩ সপ্তাহ থেকে ২ মাসের মধ্যে গরুকে মোটা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করছে। ওষুধ ও রাসায়নিকের প্রভাবে গরুর শরীরে পানি ও তরল পদার্থ জমা হতে শুরু করে। দ্রুত গরুকে মোটা দেখাতে থাকে। এই গরু বেশি দিন বাঁচে না। অস্বাভাবিকভাবে মোটা করা এই সব গরু দেখতে নির্জীব ও গতি শ্লথ হয়ে যায়। এদের ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে হয়। আচরণে অত্যন্ত ক্লান্ত ভাব দেখায়।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে পশু খামার এবং পশুর হাটে নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা করা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী স্থানীয় ভাবে বছরব্যাপী পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা, স্থলবন্দরে আমদানি করা গরু পরীক্ষা করা, পশুর হাটে পশুচিকিৎসকদের টিম দিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেন।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব চিকিৎসক লেনিন চৌধুরী।

আলোচনায় অংশ নেন পবার নির্বাহী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান, অধ্যাপক আবু সাঈদ, পুষ্টি তত্ত্ববিদ সুমাইয়া ইসলাম, বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক জাতীয় কমিটির সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম, পবার নির্বাহী সদস্য শাহীন আজিজ, আবুল হাসনাত, পবার সহ-সম্পাদক মো. সেলিম প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

*